ইসলামি দলের রাজনীতি করার অধিকার বাহাত্তরের সংবিধান পরিপন্থি নয়: ড: আসিফ নজরুল

  • আনিস আহমেদ

An aerial view of Japan Maritime Self-Defense Force's new helicopter destroyer, DDH183 Izumo, is seen at its launching ceremony in Yokohama, south of Tokyo, August 6, 2013.

ইসলামি দলের রাজনীতি করার অধিকার বাহাত্তরের সংবিধান পরিপন্থি নয়: ড: আসিফ নজরুল

সম্প্রতি বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত এক সংবাদে জানা গেছে যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন যে বাহাত্তরের সংবিধান পুনঃমুদ্রিত হলেও দেশে ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ভয়েস অফ আমেরিকাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ডঃ আসিফ নজরুল বলেন যে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা ধর্র্মনিরপেক্ষ সংবিধানের পরিপন্থি নয়। তিনি উদাহরণ স্বরূপ ভারত সহ বিভিন্ন ধর্র্মনিরপেক্ষ দেশের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন যেখানে ধর্র্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। তিনি আরো বলেন যে বাংলাদেশের সংবিধানে যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলোকে উপসংঘ বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, সে হেতু সেই সংজ্ঞা অনুযায়ীও রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধান সম্মত। তা ছাড়া সংবিধানে ধর্মের অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে, ধর্মের ব্যবহার নয়।

তিনি আরও বলেন যে ইসলামপন্থি দলগুলোকে রাজনীতি করার অধিকার দিলে গোপন রাজনীতি এবং জঙ্গিবাদের আশংকা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। তবে অধ্যাপক আসিফ নজরুল এ কথা ও বলেন যে ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে বজায় রাখলে তা হবে বাংলাদেশের সংবিধানের লংঘন। কারণ একই সঙ্গে ধর্র্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্র ধর্ম ইসলামের ধারণা চলতে পারে না।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন যে যুদ্ধপরাধীদের সঙ্গে ধর্মবাদিদের যে সমীকরণ টানা হয়, তাতেও সরকারের এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট ছেদ পড়বে এবং যুদ্ধাপরাধীরা ধর্মের অজুহাতে ধর্মীয় দলগুলোর কাছ থেকে সহানুভূতি লাভে ব্যর্থ হবে। জামায়াতে ইসলাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে জামায়াতে ইসলামকে, তাঁর মতে, ধর্মীয় দল বলা যাবে না এবং তারা সুবিধাবাদি দল। আওয়ামি লীগের এই সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগতই জানাবে বরঞ্চ, তাদের নিজেদের সুবিধার কারণে।