মৃত্যুদণ্ডের বিধান চালুর ২ বছরে ৩ জনের ফাঁসি কার্যকর করলো জাপান

জাপানের রাজধানী টোকিওর একটি ডিটেনশন সেন্টারে একটি ফাঁসির চেম্বার

জাপানে মৃত্যুদণ্ডের নিয়ে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলির ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মধ্যে, দেশটি মঙ্গলবার তিনজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে ফাঁসি দিয়েছে। দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান চালু হবার দুই বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল।

তিনজনের মধ্যে একজন, ইয়াসুতাকা ফুজিশিরো, ২০০৪ সালে সাতজনকে হত্যা এবং তাদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল। অপর দু'জন, তোমোয়াকি তাকানেজাওয়া এবং মিতসুনোরি ওনোগাওয়া, ২০০৩ সালে পিনবল পার্লারের দুই কর্মচারীর হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল।

জাপানে অত্যন্ত গোপনীয়তার মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, সেখানে ফাঁসি দেওয়া বন্দীদের সকাল পর্যন্ত তাদের ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা জানানো হয় না। ২০০৭ সাল থেকে, জাপান মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের নাম এবং তাদের অপরাধের কিছু বিবরণ প্রকাশ করা শুরু করেছে, কিন্তু তথ্য এখনও সীমিত।

বিচার মন্ত্রী ইয়োশিহিসা ফুরুকাওয়া এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এই তিনজন "অত্যন্ত জঘন্য" অপরাধ করেছে এবং তাদের শাস্তি যথাযথ ছিল।

ফুরুকাওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান, যা প্রায়শই বছরের শেষ ছুটির মরসুমে সম্পাদিত হয়, যখন সংসদ অবকাশকালীন বিরতিতে থাকে। বিরোধীরা বলে আসছে এটা সরকারের সমালোচনা কমানোর একটি প্রচেষ্টা। মঙ্গলবার জাপানের সংসদে বছরের শেষ অধিবেশন ছিল।

ফুরুকাওয়া বলেছেন, “বিচারমন্ত্রী হিসাবে, আমি বারবার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিবেচনা করার পর, তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অনুমোদন দিয়েছি”।

জাপানে এখন পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ১০৭ জনকে নিয়মিত কারাগারের পরিবর্তে আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

২০১৯ সালের ২৬শে ডিসেম্বরের পর প্রথম কোনও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল। এর আগে ২০০৩ সালে ফুকুওকায় একটি পরিবারের চার সদস্যের হত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত একজন চীনা নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সে বছর ফাঁসি হওয়া তিনজনের একজন তিনি। ২০১৮ সালে, জাপান ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, যার মধ্যে ১৩ জন আউম শিনরিকিও কাল্ট সদস্য, যারা ১৯৯৫ সালে টোকিওর পাতালে রেলে একটি মারাত্মক নার্ভ গ্যাস হামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল।