নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণে দক্ষিন আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হল নির্বাচন
মে মাসের ৭ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। ২৫ শতাংশেরও বেশী বেকার জনগোষ্ঠীর এই দেশটির নির্বাচন নিয়ে, নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই যুবক বেকারদের আগ্রহ ছিল প্রবল। ১৯৯৪ সালে দেশটিতে গণতন্ত্র সম্পূর্নভাবে প্রতিষ্ঠিত হবার পর, এই প্রথম তারা ভোট প্রদানের সুযোগ পেলেন। জোহানেসবার্গ থেকে এ বিষয়ে রিপোর্ট করেছেন থাসো খুমালো।
বর্ণবাদী আন্দোলনের দীর্ঘ ২০ বছর পর দক্ষিন আফ্রিকায় এই নির্বাচন। আর ৭ই মের এই নির্বাচনে ১৯৯৪ সালের পর জন্মগ্রহণকারী তথাকথিত মুক্তভূমিতে জন্ম নেয়া প্রজন্মের অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক।
নির্বাচন কমিশন বলছে আড়াই কোটি নথিভুক্ত ভোটারের অর্ধেকেরই বয়স ৪০ এর নীচে। নির্বাচনী প্রচারণায়ও তাই প্রতিদ্বন্দ্বীরা তরুণ ভোটারদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলী অন্তর্ভূক্ত করেছিলেন।
ক্ষমতাসীন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি) ষাইট লক্ষ চাকুরীর সংস্থান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিরোধীদলীয় ডেমোক্রেটিক এ্যালাইন্স (ডিএ)ও একই ধরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অপেক্ষাকৃত তরুণদের দল একোনমিক ফ্রিডম ফাইটার্স (ইএফএফ); বেকারদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আর এই উচ্চ বেকারত্বের হার এবং শীর্ষ পর্যায়ের ক্রমবর্ধমান দুর্নিতীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেই তরুণরা এবার ভোটে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।
২২ বছর বয়সী ড্যানিয়েল ফুমুতসু মাগিদি বললেন, “আমার ভোটই পারে পরিবর্তন আনতে। কারন আমি বিশ্বাস করি দক্ষিন আফ্রিকার তরুণ প্রজন্ম হিসাবে আমরা কর্মঠ। আমরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আমাদের বক্তব্য একে অপরকে জানাতে, বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যা সরকারকে, আমাদের কথা শুনতে বাধ্য করবে। এবং সরকার তাতে সাড়া দেবে; এর জন্য টায়ার পুড়িয়ে আন্দোলন করা লাগবে না। ফলে আমার বিশ্বাস আমার ভোট কথা বলবে”।
২৩ বছর বয়সী আয়ান্দা গুম্বি বললেন: তিনি ক্ষমতাসীন এএনসি’র প্রতি আশাহত। কারন তারা দুর্নিতি ও বেকারত্ব হ্রাস করতে ব্যার্থ হয়েছে।
“ইএফএফ এর প্রার্থী মালেমা, আমি তাকে পছন্দ করি; কারন লোকটি সৎ ও বিশ্বাসযোগ্য। মানুষ বহু বছর এএনসিকে ভোট দিয়েছে, কিন্তু কোনো পরিবর্তন আসেনি।”
প্রেটোরিয়া ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সেন্টার ফর পলিটিক্স এ্যান্ড রিসার্চ এর নির্বাহী পরিচালক প্রিন্স মাশিলি বললেন, “২৩ থেকে ৩০ বছর বয়সী ভোটাররা মনে হয় মালেমাকে সমর্থন করবেন।”
কুড়ি বছর আগে এই ভোটরদের অনেকের পিতামাতা নিস্পেষিত দক্ষিন আফ্রিকানদের পরিবর্তনের প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেছেন। আর এই বছর ১০ লক্ষেরও বেশী প্রথমবারের ন্যায় ভোটার হওয়া দক্ষিন আফ্রিকান স্বাধীনভাবে ভোট প্রয়োগের অভিজ্ঞতা অর্জন করলেন।
Your browser doesn’t support HTML5
মুক্তভূমিতে জন্ম নেয়া প্রজন্মের অংশগ্রহণে দ: আফ্রিকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত