মাদার তেরেসাকে সেইন্ট ঘোষণা করেছেন পোপ ফ্র্যান্সিস

মাদার তেরেসাকে সেইন্ট বা সন্ত ঘোষণা করেছেন পোপ ফ্র্যান্সিস। রবিবার ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স স্কোয়ারে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ক্যানোনাইজেশন অনুষ্ঠানে তিনি মাদার তেরেসাকে সেন্ট ঘোষণা করেন।

“প্রভুর সম্মানে আমরা কে সেন্ট ঘোষনা করছি এবং আমরা তাঁকে সেন্টদের অন্তর্ভুক্ত করছি, এবং ঘোষণা করছি সকল গীর্জায় তাঁকে সেভাবেই শ্রদ্ধা জানাতে হবে”।

নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্ত মাদার তেরেসা আজীবন মানবসেবার আদর্শ হিসাবে পরিচিত ছিলেন। ১৯২৯ সালের ৬ জানুয়ারী ভারতের কলকাতায় গিয়ে সমাজের দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর সেবার মধ্যে দিয়ে শুরু করেন তাঁর মানব সেবার কাজ।

আালবেনিয়ান সন্নাসিনি মাদার তেরেসা, পরবর্তিতে তাঁকে অনুসরণকারি কয়েক হাজার সন্নাসিনি এবং কয়েক লক্ষ স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে সারা বিশ্বে গড়ে তোলেন ১২০টি সেবা প্রতিষ্ঠান। দরিদ্র দু:স্থ মানবতার সেবা করে মাদার তেরেসা নিজে পালন করেন নিরাভরণ ও আত্মসংযমী জীবন।

১৯৯৭ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর ৮৭ বছর বয়সে মারা যান সেই মহীয়সী নারী। মৃত্যুকালে রেখে যান তাঁর কাছে থাকা বাইবেল, তার প্রার্থনার বিছানা, শাড়ি এবং তাঁর আদর্শ।

ঢাকা থেকে আমীর খসরু:

বাংলাদেশে ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ই শুধু নয়, সমগ্র খ্রিস্টান সম্প্রদায়ই মাদার তেরেসার সেইন্ট মর্যাদালাভে আনন্দিত, উৎফুল্ল। তারা মাদার তেরেসার আদর্শে অধিকতর অনুপ্রাণিত হয়ে কাজ করার প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছেন। এমনই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিশপ জেরভাস রোজারিও।
মাদার তেরেসার সেইন্ট মর্যাদা লাভকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে কয়েকটি অনুষ্ঠান হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় খ্রিস্টীয় সম্প্রদায়ের প্রার্থনা অনুষ্ঠান হবে বলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।...

Your browser doesn’t support HTML5

ঢাকা থেকে আমীর খসরু:

কলকাতা থেকে পরমাশীষ ঘোষ রায়ের রিপোর্ট:

বিশ্বমানবতার মূর্তপ্রতীক মাদার টেরেসার সেন্ট হুড উপাধীর মহেন্দ্রক্ষণ কে বড় স্ক্রীনের পর্দায় চাক্ষুষ করতে অগণিত মানুষ সমবেত হয়েছিলেন আজ সকাল থেকে মধ্য কলকাতার মাদার হাউস অর্থাৎ মাদার টেরেসার নিজের হাতে তৈরী সেবা প্রতিষ্ঠান মিশনারিজ চ্যারিটিতে। সকাল থেকেই এখানে নিবেদিত হয় প্রার্থনা সংগীত। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ সমবেত হয়ে মাদার কে শ্রদ্ধা জানান। ভারতীয় সময় দুপুর দুটো নাগাদ যখন রোমের ভ্যাটিকান সিটির সেন্টপির্টাস স্কোয়ারে মাদার কে সেন্ট হুড উপাধিতে ভুষিত করার পর্ব চলছিল কলকাতায় সেই সময় বড় জায়েন্ট স্ক্রীনে সেই ঐতিহাসিক দৃশ্য প্রদর্শনেরও ব্যবস্থা করা হয় উৎসব মুখর মিশনারিজ অব চ্যারিটির প্রাঙ্গনে। আর অগনিত মানুষ সেই সুদৃশ্য শ্রদ্ধাবনত চিত্তে তা উপভোগ করেন।

Your browser doesn’t support HTML5

কলকাতা থেকে পরমাশীষ ঘোষ রায়ের রিপোর্ট:

pgr1

এরই ফাকে মুসলিম খ্রীষ্টান হিন্দু তিন সম্প্রদায়ের মানুষই মিশনারিজ অফ চ্যারিটির সামনে মাদারকে শ্রদ্ধা জানাতে এসে তাদের প্রতিক্রিয়ায় তিনজনই যেন একই কথা বললেন আমাদের কলকাতার মা বিশ্বজনীন মায়ের সম্মান পাচ্ছেন এ আমাদেরই সবচেয়ে গর্বের বিষয়।

pgr2

সর্বোপরি আজকে মাদার টেরেসা কে রোমের ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পির্টাস স্কোয়ারে যে সম্মানে ভূষিত করা হয় সেই অনুষ্ঠানে স্থলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সহ দুই তৃনমূল সাংসদ ,রাজ্য প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ আধিকারিক এবং কলকাতার আর্চবিশপ সহ গোটাদেশের পয়তাল্লিশ জন বিশপ ও মিশনারিজ অফ চ্যারিটির এক প্রতিনিধিদল এবং দেশের প্রধান মন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে সেখানে হাজির ছিলেন বিদেশ মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ । পাশাপাশি গোটা দেশ থেকে প্রায় সাতশো মানুষ এই মাহেন্দ্র ক্ষণ কে চাক্ষূষ করতে সেখানে হাজির হন।

গৌতম গুপ্তের রিপোর্ট:

সারা পৃথিবীতে মিশনারিজ অফ চ্যারিটির সন্ন্যাসিনীদের মানুষ দেখেন সাদা খোলের নীল পাড় শাড়িতে। সেই ১৯৪৯ সাল থেকেই এটাই তাঁদের পোশাক। বছরে বরাদ্দ তিনটি করে শাড়ি। এই শাড়ি কিন্তু কুষ্ঠরোগীদের হাতে বোনা। কলকাতার উত্তর শহরতলীর টিটাগড়ে এই সংগঠনের যে কুষ্ঠাশ্রম, সেই গান্ধী প্রেম নিবাস-এ থাকেন ২০০ কুষ্ঠ রোগী। এখানে যে তাঁত রয়েছে, তাতেই বোনা হয় এই বিশিষ্ঠ সাদা খোলেই নীল পাড় শাড়ি। পাশাপাশি তিনটি পাড় - একটি হল দারিদ্র্যের প্রতীক, দ্বিতীয়টি আনুগত্যের ও অপরটি কৌমার্য্যের। না, শাড়ি কুষ্ঠরোগীদের বোনা হলেও তা থেকে সংক্রমণ ঘটবার আশঙ্কা নেই। কেননা, শরীরের সংক্রমণ কাপড়ে সংক্রমিত হয় না।

Your browser doesn’t support HTML5

গৌতম গুপ্তের রিপোর্ট: