যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ অস্ত্র বহনের পক্ষে কাগজপত্র দেখাতে পারেনি: ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব
যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় থাকা জলদস্যুতা নিরোধের একটি জাহাজ অস্ত্র বহন করে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া ভারতীয় জল সীমান্তে প্রবেশ করায় ভারতীয় পুলিশ জাহাজটি আটক করে এবং সেখান থেকে ৩৩ জন ক্রুদের গ্রেফতার করে। শুক্রবার টিউটিকরিনের দক্ষিন বন্দর থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে ভয়েস অব আমেরিকার রিপোর্ট থেকে শোনাচ্ছেন সেলিম হোসেন:
ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং বলেন তাদেরকে গ্রেফতার করা হয় কারণ তারা অস্ত্র বহনের পক্ষে কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
“তিনি বলছিলেন, প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ব্যতিরেকে অস্ত্র গোলাবারুদ এবং সশস্ত্র রক্ষী থাকাসহ নানা কারণে আমাদের উপকুলরক্ষীরা জাহাজটি থামায়। ক্রু এবং সশস্ত্র রক্ষীরা এখন তামিল নাড়ুতে পুলিশের তদন্তে সহায়তা করছেন। অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে এবং এখানকার যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা চলছে”।
সিয়েরা লিয়নের পতাকা সম্বলিত জাহাজ ‘সীম্যান গার্ড ওহাইও’ একজন বৃটিশ, একজন এষ্টানিয়ান, একজন ভারতীয় এবং একজন ইউক্রেনিয়ান ক্রুসহ গত সপ্তাহে টিউটিকরিনে আনা হয়েছে। জাহাজটির মালিক যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সমুদ্র নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এ্যাডভানফোর্ট।
প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ওয়াটসন ভয়েস অব আমেরিকাকে জানান জাহাজে থাকা অস্ত্র ও গোলাবারুদের জন্য অনুমতিপত্র ছিল এবং এগুলো পূর্ব ভারতীয় সমুদ্রে জলদস্যু বিরোধী অভিযানে যাচ্ছিল। তিনি বলেন জাহাজটি থামানোর পরপরই ক্যাপ্টেন অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদর্শন করে।
তিনি বলেন, আটক করার সময় ‘সীম্যান গার্ড ওহাইও’ জাহাজটি ভারতীয় পানি সীমান্তের বাইরে দিয়ে যাচ্ছিল। তবে সাইক্লোন ফাইনিলের কারণে আবহাওয়া উত্তাল থাকায় ভারতীয় সীমান্তের স্বাভাবিক দূরত্বের চেয়ে কাছাকাছি দূরত্বে চলছিলো।
তিনি বলছিলেন “জাহাজটি ১২ মাইল সীমানার বাইরে ছিল। এখন ভারত তার বিশেষ অর্থনৈতিক জোনের ক্ষমতা প্রয়োগ করার চেষ্টা করছে। আমি সমুদ্র বিষয়ক আইনজ্ঞ নই, তবু যা বুঝি তা হচ্ছে পানি সীমান্তের ১২ মাইল দূরে থাকা কোনো জাহাজ আটক করা ঠিক নয়”।
একজন ভারতীয় প্রতিরক্ষা এবং পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিশ্লেষক ভরত ভার্মা বললেন ভারতীয় পানি সীমান্তের বাইরে থাকলে উপকুল রক্ষীরা জাহাজটি আটক করতে পারেন না।
ভার্মা বলছিলেন, “যদি জাহাজটি বিনা অনুমতিতে আমাদের পানি সীমান্তের ১২ নটিক্যাল মাইল ভেতরে আসে তাহলে তা এবং তার ক্রুদেরকে আটক করা আইন সঙ্গত। তবে উপকুল রক্ষীরা যারা তা আটক করেছেন তারা আইন জানেন। ফলে মনে হচ্ছে জাহাজটি ভারতীয় সীমান্তের মধ্যেই ছিল”।
ওয়াটসন বলেন জাহাজটি যখন আটক করা হয় তখন আন্তর্জাতিক দরিয়ায় অন্য একটি জাহাজ থেকে জ্বালানী নেয়া হচ্ছিলো। তিনি বলেন জ্বালানী ক্রয়ের বিষয়টি আইন সম্মত ও বৈধ।
“ভারতীয় উপকুল রক্ষীরা জ্বালানী নেয়া বিষয়ক এক তদন্তের কথা বলে এসে আমাদেরকে বন্দরে নামতে বলেন। আমরা বন্দরে যাই, কারণ আমাদের জাহাজে অস্ত্র ছিল এবং আমাদের তা ওদেরকে জানানো দরকার। আমাদেরকে বলা হল তারা সব কাগজপত্র ঠিকমতই পেয়েছেন”।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ্যাডভানফোর্ট জাহাজ আটকের বিষয়ের পরিবর্তে সীম্যান গার্ড ওহাইও’কে জ্বালানী ক্রয় এবং ভারতে বিগত ১৪ বছরের মধ্যে শক্তিশালী সাইক্লোন ফাইলিন থেকে বাঁচার অনুমতি দেয়ায় ভারতীয় কতৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানায়।
Your browser doesn’t support HTML5
যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় থাকা জলদস্যুতা নিরোধের একটি জাহাজ অস্ত্র বহন করে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া ভারত