সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তবর্তী শহর জিজান-এ ইয়েমেনের একজন বিদ্রোহীর একটি হামলায় দুইজন নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন বলে সৌদি রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে।
সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায় যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নিক্ষিপ্ত একটি ক্ষেপনাস্ত্রে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিজান প্রদেশে একজন সৌদি নাগরিক এবং একজন ইয়েমেনের বাসিন্দা নিহত হন। আহতদের মধ্যে ছয়জন সৌদি এবং একজন বাংলাদেশী নাগরিক বলে সৌদি সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে।
এই প্রাণঘাতী আন্তঃসীমান্ত হামলা এটাই প্রমাণ করে যে, ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা গৃহযুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে, শুক্রবার সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সানাতে বিমান হামলা চালায়, যেটি শহরের কেন্দ্রস্থলের নিকটবর্তী একটি সামরিক ক্যাম্পে আঘাত হানে বলে সৌদি সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে। হুথি সংবাদ মাধ্যম জানায় যে এই হামলাগুলো একটি জনবহুল এলাকায় আঘাত করে, যাতে মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার হুথি মুখপাত্র, ইয়েমেনের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়েহিয়া সারি বলেন যে বিদ্রোহীরা জিজানে তিনটি ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপ করে, তার ভাষ্যমতে যার লক্ষ্যবস্তু ছিল সেখানকার “গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল” স্থাপনাগুলো। তিনি এ বিষয়ে আর কোনও বিস্তারিত তথ্য দেননি।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে ১৩০,০০০ এর মত মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে হাজার হাজার বেসামরিক লোকও রয়েছেন।
এই সপ্তাহের শুরুর দিকে ওয়াশিংটন ভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক এ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ জানায় যে সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলা গত বছরের তুলনায় এ বছর দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গিয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২১ এর মধ্যে হওয়া হাজার হাজার হুথি হামলার তথ্য বিশ্লেষণের উপর ভিত্তি করে জানানো হয় যে এ বছর সৌদি আরবে সংঘটিত হুথি হামলার সংখ্যা প্রতিমাসে গড়ে ছিল ৭৮ টি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল প্রতিমাসে গড়ে ছিল ৩৮টি।