অবিশ্বাস সত্ত্বেও, আফগান শিয়ারা তালিবানের কাছে সুরক্ষা চায়

একজন মহিলাকে দেখা যাচ্ছে কাবুলের একটি হাজারা পাড়ার শিয়া মসজিদ থেকে বের হচ্ছেন। ৯ই নভেম্বর, ২০২১, ছবি-এপি

কাবুলে একটি শিয়া মাজারের বাইরে, চারজন সশস্ত্র তালিবান যোদ্ধা পাহারা দিয়ে দাঁড়িয়েছিল যখন উপাসকরা জুমার নামাজে আদায় করছিলেন । তাদের পাশাপাশি আফগানিস্তানের প্রধানত শিয়া হাজারা সংখ্যালঘুদের একজন প্রহরী একটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।

আগস্টে তালিবানের আফগানিস্তান দখলের পর এটি ছিল অদ্ভুত এক নতুন সম্পর্কের লক্ষণ । সুন্নি কট্টরপন্থী তালিবান যারা কয়েক দশক ধরে হাজারাদেরকে ধর্মদ্রোহী হিসেবে টার্গেট করেছিল, তারা এখন আরও নৃশংস শত্রু: ইসলামিক স্টেট গ্রুপের বিরুদ্ধে হাজারাদের জন্য একমাত্র সুরক্ষা।

আবুল ফজল আল-আব্বাস মাজারের একজন হাজারা প্রহরী সোহরাব , অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছেন যে তালিবান প্রহরীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভাল । "তারা এমনকি মাঝে মাঝে শিয়া মসজিদে নামাজ পড়ে" ।

তবে, সবাই এত স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না।

সৈয়দ আকিল, একজন হাজারা, তার স্ত্রী এবং ৮ মাস বয়সী মেয়ের সাথে মসজিদে গিয়েছিলেন, তিনি বিরক্ত হয়েছিলেন যে অনেক তালিবান এখনও তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেন, পুলিশের ইউনিফর্মের চাইতে এটি জিহাদি বিদ্রোহীরদের পোশাকের মত মনে হয়।

১৯৯০এর দশকে তালিবান, হাজারা এবং অন্যান্য জাতি- গোষ্ঠীগুলিকে সহিংসভাবে দমন করেছিল। তবে প্রথম শাসনের তুলনায় এবার ক্ষমতা দখলের পর থেকে, তালিবান নিজেদেরকে আরও মধ্যপন্থী হিসাবে উপস্থাপন করেছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য, তারা দেশের সংখ্যালঘুদের তাদের গ্রহণযোগ্যতা প্রদর্শন করতে হাজারাদের রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

কিন্তু এখনও অনেক হাজারা, বিদ্রোহী থেকে শাসক হয়ে যাওয়া তালিবান শাসকদের গভীরভাবে অবিশ্বাস করে, যারা বেশির ভাগ পশতু জাতিগোষ্ঠীর লোক , এবং তারা নিশ্চিত যে তারা কখনই তাদের আফগানিস্তানে সমান মর্যাদায় গ্রহণ করবে না। হাজারা সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন যে তারা তালিবান নেতৃত্বের সাথে বারবার দেখা করেছেন, সরকারে অংশ নিতে চেয়েছেন , তবে তা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। হাজারারা অভিযোগ করে যে অনেক যোদ্ধারা তাদের প্রতি বৈষম্য করে এবং তাদের ভয় যে তালিবান দ্বারা নিপীড়ন হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।