আফগানিস্তানে ভুলবশত ড্রোন হামলায় নিহতদের পরিবারকে অর্থসাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিল যুক্তরাষ্ট্র

আফগানিস্তানের কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলার পর আহমদী পরিবারের বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি দেখছে আফগান নাগরিকরা। ২৯ আগস্ট ২০২১। (ফাইল ছবি- এপি/খাজা তওফিক সেদ্দিকি)

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শুক্রবার জানিয়েছে যে আগস্টে আফগানিস্তানের কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রের ভুলবশত ড্রোন হামলায় নিহত ১০ জনের আত্মীয়দের সমবেদনাসূচক অর্থ প্রদানে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কার্বি এক বিবৃতিতে বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক পররাষ্ট্র দফতরের সঙ্গে কাজ করছে যাতে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারে।

কার্বি বলেন, প্রতিরক্ষা নীতির আন্ডার সেক্রেটারি ডঃ কলিন কাহল এবং অলাভজনক গ্রুপ, নিউট্রিশন অ্যান্ড এডুকেশন ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ডঃ স্টিভেন কোনের মধ্যে বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে এই বিষয়টি উঠে আসে।

কার্বি বলেন, " ডঃ কাহল আর্থিক ভাবে সমবেদনা প্রদানসহ প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিনের নিহতদের পরিবারকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পুণর্ব্যক্ত করেছেন। কত টাকা দেওয়া হবে তা ডঃ কাহল বলেননি।

২৯শে আগস্ট, যুক্তরাষ্ট্রের এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জেমেরাই আহমদী যে গাড়ি চালাচ্ছিলেন সেটিতে আঘাত করে। আহমদি সে সময় বাইরে থেকে সবে বাড়ি ফিরেছিলেন। ঐ ঘটনায় সাত শিশুসহ পরিবারের ১০ জন সদস্য নিহত হয়।

কয়েক সপ্তাহ পর, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান নৌবাহিনীর জেনারেল ফ্র্যাঙ্ক ম্যাকেঞ্জি এই হামলাকে "মর্মান্তিক ভুল" বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, নিরীহ বেসামরিক মানুষ ঐ হামলায় নিহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বৈঠকের সময় কার্বির তথ্যমতে, কোওন কাহলকে বলেন, আহমদি বহু বছর ধরে এনইআই (NEI) এর সঙ্গে "আফগানিস্তানে উচ্চ মৃত্যুর হারের মুখোমুখি ব্যক্তিদের জন্য যত্ন এবং জীবন রক্ষাকারী সহায়তা প্রদানে" কাজ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রথমে এই হামলার পক্ষে কথা বলে। তারা বলে যে হামলাটি ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর "সহযোগীকে" লক্ষ্য করে করা হয়েছিল এবং আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও নেটো সেনা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত পর্যায়ে জঙ্গিদের হামলা চালানোর ক্ষমতা ব্যাহত করে।

সেনাবাহিনী হামলার যে বর্ণনা করেছে এবং হামলার পর যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং অন্যান্য সংবাদ সংস্থাগুলি জানিয়েছে যে গাড়িটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল সে গাড়ির চালক যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সংস্থার দীর্ঘদিনের কর্মচারী ছিলেন। পেন্টাগনের দাবি যে গাড়িটিতে বিস্ফোরক ছিল, তা সত্ত্বেও বড় ধরণের কোন দ্বিতীয় বিস্ফোরণের লক্ষণ পাওয়া যায়নি।

ড্রোন হামলার পর আগস্টের শেষের দিকে কাবুল বিমানবন্দরের একটি ফটকে ইসলামিক স্টেট শাখার ধ্বংসাত্মক আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৬৯ জন আফগান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনা সদস্য নিহত হয়।

গত মাসে, ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ড্রোন হামলায় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা ভাবছে।