ইইউ ‘এর সীমান্ত পর্যবেক্ষণ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে গ্রীস

পোরোস গ্রামে এভ্রোস নদীর কাছে গ্রীস -তুর্কি সীমান্তে ইস্পাতের দেয়ালের পাশে একজন পুলিশ সদস্য টহল দিচ্ছেন। ২১শে মে, ২০২১, ছবি-এপি

গ্রীস ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ অভিবাসন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গঠনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।

গ্রীসের এই প্রত্যাখ্যান ব্রাসেলসকে ক্ষুব্ধ করেছে। অবৈধভাবে অভিবাসীদের জোরপূর্বক ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ব্রাসেলস এথেন্সের কঠোর সমালোচনা করেছে।গ্রীসের এই প্রত্যাখ্যান লাখ লাখ ডলার আর্থিক সহায়তা থেকে তাকে বঞ্চিত করতে পারে যা অবৈধ অভিবাসন রোধে সক্ষমতা বাড়াতে গ্রীসের প্রয়োজন। এটি বিশেষভাবে সত্য কারণ তালিবানের আফগানিস্তান দখলের পর পশ্চিমে আফগান অভিবাসীদের ঢেউ নামতে পারে বলে ইউরোপ প্রস্তুত।

সংসদে গ্রীক অভিবাসন মন্ত্রী নটিস মিতারকিসকে জিজ্ঞাসা করা হলে যে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ অভিবাসন পর্যবেক্ষণের জন্য ইইউকে একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষণ দল প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেবেন কিনা সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি বলেন যে এথেন্সের সরকার ইইউ জুড়ে অভিবাসন সম্পর্কিত স্বাধীন পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনার জন্য উন্মুক্ত, তবে তা ইউরোপের সব দেশের জন্যই করতে হবে শুধু গ্রীসের জন্য নয়।

মিত্রাকিস বলেছেন যে, গ্রীস কীভাবে অবৈধ অভিবাসীদের প্রতিরোধ করছে এবং অবৈধভাবে জোরপূর্বক তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করার নজরদারি সংগঠন তৈরি করা, গ্রীক সরকারের অগ্রাধিকারগুলির মধ্যে নেই।

তিনি জোর দিয়ে বলেছেন এরকম কোন সমস্যা এখানে নেই এবং গ্রীসের সীমান্ত রক্ষা করা গ্রীসের সার্বভৌম অধিকার।

গ্রীসে জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভয়েস অফ আমেরিকার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, এই বছর অভিবাসন প্রত্যাশীদের অবৈধভাবে জোরপূর্বক ফিরিয়ে দেয়ার ৪৫০টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলাগুলি তদন্তের জন্য বাদি পক্ষের স্থানীয় আইনজীবির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে এই সংখ্যা আরো বেশি। নরওয়েজিয়ান ভিত্তিক এজিয়ান বোট রিপোর্ট, যারা এই ধরনের ঘটনার হিসাব রাখে, তারা শনিবার বলেছে যে ২০শে মার্চ, ২০২০ থেকে এখন পর্যন্ত অবৈধভাবে জোরপূর্বক ফিরিয়ে দেয়ার সাতশোটির মত ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

এতে দাবি করা হয়েছে মোট ১৯,২০০ জনকে কর্তৃপক্ষ ফিরিয়ে দিয়েছে। গ্রীক সমুদ্র থেকে তাদের নৌকাগুলিকে সরিয়ে বা কখনও কখনও তাদের নৌকা থেকে মোটর ছিনিয়ে নিয়ে অভিবাসী ও শরণার্থীদের মধ্য সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিবাসীদের জোরপূর্বক ফিরিয়ে দেয়া, আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন। এটি আশ্রয় প্রার্থীদের নিরাপদ প্রবেশ ও সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘন করে।