এক দশকের বেশি সময় পর দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো প্রেসিডেন্ট প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফর করছেন

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়-ইন অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী লেবার পার্টির নেতা অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে একটি ছবির জন্য পোজ দিচ্ছেন।১৪ ডিসেম্বর ২০২১। (ছবি-এপি/ব্রেনডন থর্ন)

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়-ইন প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের সঙ্গে আলোচনার জন্য বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন এই চার দিনের সফরে চীনের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাবের বিষয়ের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে।

২০২০ সালের মার্চ মাসে অস্ট্রেলিয়া বেশিরভাগ বিদেশী পর্যটকদের জন্য তাদের সীমানা বন্ধ করে দেয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়-ইন প্রথম বিশ্ব নেতা যিনি অস্ট্রেলিয়াতে গেলেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন সোমবার ক্যানবেরায় মুন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ফার্স্ট লেডি কিম জং-সুককে স্বাগত জানিয়েছেন।

মরিসন বলেন, "আমি আপনাকে স্বাগত জানাতে পেরে অত্যন্ত খুশি। আমাদের সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করতে পেরে খুব খুশি।”

এই দুই নেতা দূষণমুক্ত জ্বালানী প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ে বেশ কয়েকটি নতুন যৌথ উদ্যোগে একমত হয়েছেন। ৭৭ কোটি ১০ লক্ষ ডলার মূল্যের একটি নতুন চুক্তির অধীনে, দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি হানওয়া ৩০টি হাউইটজার, গোলাবারুদ সরবরাহকারী যান এবং শত্রুর আর্টিলারি সনাক্ত করতে সক্ষম রাডার সরবরাহ করবে। এটি অস্ট্রেলিয়া এবং একটি এশিয়ান দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক চুক্তি। বিশ্লেষকরা বলছেন দক্ষিণ কোরিয়া অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে নতুন পদাতিক হামলার যানবাহনের ২১.৩ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তিও জয় করতে পারে।

একজন দোভাষীর মাধ্যমে বক্তৃতাকালে মুন বলেন, দুটি দেশ একটি উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মুন বলেন কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া একই মূল্যবোধকে সমর্থন করে এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়গুলিতে তারা সমমনা। তিনি বলেন এ জন্য কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অবিচল বন্ধন ও চীনের সঙ্গে একটি শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক করতে চায়।

গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে মুন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি অস্ট্রেলিয়ায় গেলেন।