কাশ্মীরে চার সাংবাদিকের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে ভারতের পুলিশ

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের শ্রীনগরের একটি পত্রিকা অফিসের সামনে পাহারা দিচ্ছেন একজন আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য। সেপ্টেম্বর ৮, ২০২১- এপি

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বুধবার চার জন সাংবাদিকের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এর ফলে বিতর্কিত ঐ অঞ্চলটিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে উদ্বেগ বাড়ল।

ঐ অঞ্চলের প্রধান শহর শ্রীনগরে ঐ অভিযান শেষে চার জন সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে স্থানীয় থানায় ডেকে পাঠানো হয়। পুলিশ ঐ অভিযানের কারণ সম্পর্কে নির্দিষ্ট ভাবে কিছু বলেনি।

চার সাংবাদিকের মধ্যে তিনজন বিদেশী গণমাধ্যমের জন্য লেখেন আর বাকি একজন একটি মাসিক ম্যাগাজিনের সম্পাদক।

দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীরে সাংবাদিকরা প্রচণ্ড চাপ ও বাধার মুখে কাজ করেছেন এবং তাদেরকে লক্ষ্য করে ভারত সরকার ও জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো আক্রমণ করেছে, কখনও কখনও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

সাংবাদিকেরা বলেন ২০১৯ সালে নজিরবিহীন লক ডাউনের মাধ্যমে কাশ্মীরের আধা স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিল করে অঞ্চলটিকে কেন্দ্রীয় সরকারের আওতায় দুটি পৃথক এলাকা করার পর পুলিশের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের উপর হুমকি ও হয়রানি বেড়েছে।

বহু সাংবাদিককে গ্রেফতার, মারধর ও হয়রানি করা হয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের আওতায় তদন্ত করা হয়েছে।

ঐ অঞ্চলে সাংবাদিকদের নির্বাচিত সংগঠন কাশ্মীর প্রেস ক্লাব থেকে ভারত সরকারের কাছে কাশ্মীরে মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার বার বার অনুরোধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো শারীরিকভাবে আক্রমণ করছে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া ও গ্রেফতারের হুমকি দিচ্ছে, গণমাধ্যমের কন্ঠ রোধ করার হুমকি দিচ্ছে।

২০১৯ সালের আগস্টে অঞ্চলটিকে বিশেষ ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করার সিদ্ধান্তের পর থেকে কাশ্মীরে কয়েক মাসের জন্যে সাংবাদিকতা বলতে গেলে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। গত বছর জুন মাসে ভারত বিতর্কিত গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন করে যার ফলে স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা দানে সরকার অতিরিক্ত ক্ষমতা পায়।

কাশ্মীর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভাজিত একটি অঞ্চল। উভয় দেশই তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ব্রিটিশ শাসন মুক্ত হবার পর থেকে যুদ্ধ করে চলেছে।