ভয়াবহ খরায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কেনিয়ার ১৩ লক্ষ মানুষকে সহায়তা প্রদানের জন্য জাতিসংঘ প্রায় ১৪০ কোটি ডলারের জরুরী আবেদন করছে।
পর পর দুটি মৌসুমে কম বৃষ্টিপাতের ফলে কেনিয়া জুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ খরার শিকার হয়েছে, ফলে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
ইন্টিগ্রেটেড ফেজ ক্লাসিফিকেশন, যারা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার তীব্রতা বিশ্লেষণ করে, তাদের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৩ লক্ষ ৭০ হাজার কেনিয়ার জনগণ জরুরি অবস্থার মধ্যে রয়েছে এবং ২ কোটি মানুষ অন্যান্য সংকটে রয়েছে।
কেনিয়ায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর আবাসিক সমন্বয়কারী স্টিফেন জ্যাকসন রাজধানী নাইরোবি থেকে জুমের মাধ্যমে কথা বলেন। তিনি বলেন,তীব্র অপুষ্টির হার দ্রুত বাড়ছে। তিনি বলেন ৪ লক্ষ, ৬৫ হাজার শিশু, ৯৬ হাজার গর্ভবতী এবং স্তন্যদানকারী মহিলা তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছেন। তিনি সতর্ক করেন যে জরুরী পুষ্টিকর খাবার ছাড়া অনেকেই আসন্ন ঝুঁকিতে রয়েছে।
উত্তর কেনিয়ার ওয়াজিরের একটি ক্লিনিক পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, লোকেরা তাকে বলেছে যে এক বছরেরও বেশি সময় হয়ে গেছে যখন শেষবার সেখানে বৃষ্টি হয়েছিল।
তিনি বলেন, “আমি একজন তরুণী মা জিনাবের সাথে কথা বলেছিলাম, যিনি আমাকে বলেছেন যে তিনি সকালে তার বাচ্চাদের খাওয়াতে পারেন না এবং তিনিজানেন না যে তিনি রাতেও তাদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারবেন কিনা। তার অনেক গবাদি পশু ইতিমধ্যেই খরার কারণে মারা গেছে এবং যেগুলি বাকি আছে সেগুলি বিক্রি করার জন্য ভাল অবস্থায় নেই। আর আপনি জানেন, উত্তর কেনিয়ায়, গবাদি পশু হচ্ছে জীবন চালানোর ভিত্তি”।
কেনিয়া সরকার এখন পর্যন্ত খরায় ক্ষতিগ্রস্ত সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সাহায্য করার জন্য প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ ডলার বরাদ্দ করেছে এবং এই প্রচেষ্টার জন্য আরও ২ কোটি ডলার ঘোষণা করেছে। তবে জ্যাকসন বলেন এটি যথেষ্ট নয় এবং আন্তর্জাতিক দাতাদের সমর্থন প্রয়োজন।
এর আগে ২০১১ সালের পূর্ব আফ্রিকার খরা, এই অঞ্চল জুড়ে তীব্র খাদ্য সংকট সৃষ্টি করেছিল। প্রায় ১ কোটি মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছিল এবং এর ফলে হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল।
বর্তমান আবেদন, খাদ্য ও জীবিকা প্রদান করবে, তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা শিশু ও নারীদের জন্য বিশেষ পুষ্টিগত চিকিৎসা, পানি, পয়ঃ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিধি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় চাহিদা প্রদান করবে।