জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনের চমক, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের যৌথ ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু বিষয়ক দূত জন কেরি স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে কপ-২৬ জলবায়ু সম্মেলনে তার বক্তব্য রাখছেন।১০ নভেম্বর ২০২১। (এপি/আলাস্টেইর গ্র্যান্ট)

যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন বুধবার গ্লাসগোতে কপ-২৬ (COP26) জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনে আগামী দশকে বৈশ্বিক উষ্ণতা সীমিত করার পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একটি যৌথ ঘোষণা দিয়ে বিস্মিত করেছে।

বিশ্ব কীভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিকে প্রাক-শিল্প স্তরের উপরে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে সীমাবদ্ধ করবে সে বিষয়ে প্রতিনিধিরা সম্মেলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে একমত হওয়ার জন্য আলোচনার শেষ ঘন্টায় রয়েছেন ঠিক সে সময় এই ঘোষণাটি আসে।

চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের দুটি বৃহত্তম দূষণকারী দেশ এবং বিজ্ঞানীরা বলছেন জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের ভবিষ্যত পদক্ষেপগুলি গুরুত্বপূর্ণ। গত সপ্তাহে শীর্ষ সম্মেলনে চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের অনুপস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু বিষয়ক দূত জন কেরি বুধবার গ্লাসগোতে সাংবাদিকদের বলেন যৌথ ঘোষণাটি এপ্রিল মাসে উভয় দেশের দেয়া বিবৃতির ভিত্তির উপর দেয়া হয়েছে।

কেরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা এই কপ সম্মেলনে প্রশমন, অভিযোজন, সমর্থন এবং স্পষ্টতই সমস্ত মূল বিষয়গুলির বিষয়ে সাফল্যের জন্য একটি যৌথ ইচ্ছা প্রকাশ করেছি যার ফলে বিশ্ব উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাড়াবে এবং এই সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। এখন, এই ঘোষণার সঙ্গে আমরা একটি নতুন পদক্ষেপে পৌঁছেছি, এই বিষয়ে আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সহযোগিতার জন্য একটি পরিকল্পনা করেছি।"

কেরি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে পার্থক্যের কোন অভাব নেই, তবে জলবায়ু বিষয়ে, সহযোগিতাই এই কাজটি সম্পন্ন করার একমাত্র উপায়। এটি একটি বিবেচনামূলক বিষয় নয়। এটি বিজ্ঞান। এটি গণিত এবং পদার্থবিদ্যা যেটি আমাদের যে পথে এগোতে হবে তা নির্দেশ করে।”

চীনের প্রধান জলবায়ু আলোচক শি জেনহুয়া একই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।

শি সাংবাদিকদের বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তন একটি চ্যালেঞ্জ, একটি সাধারণ চ্যালেঞ্জ, যা মানবতার মুখোমুখি হয়েছে।এটি ভবিষ্যত প্রজন্মের মঙ্গলকে বহন করে। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন জরুরী এবং গুরুতর হয়ে উঠছে। এটিকে একটি অস্তিত্বের সংকটে পরিণত করেছে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলি। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভিন্ন মতের চাইতে একমত রয়েছে, যা আমাদের সহযোগিতার জন্য বিশাল সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। গ্লাসগো কপ সম্মেলন শেষ হতে দুই দিন বাকি রয়েছে তাই আমরা আশা করি যে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের এই যৌথ ঘোষণাটি কপ সম্মেলনের একটি সাফল্য হিসেবে গৃহীত হবে।"

যৌথ প্রতিশ্রুতির মধ্যে মিথেন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ বন উজাড় মোকাবেলা, নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দরিদ্র দেশগুলির জন্য আর্থিক সহায়তার গতি বাড়ানোর বিষয়ে সহযোগিতা রয়েছে। তবে এই ঘোষণায় নির্দিষ্ট তারিখ বা লক্ষ্যমাত্রা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।