টিগ্রায়ের উত্তরাঞ্চলের রাজধানী শহরে আরেকটি বিমান হামলা চালিয়েছে ইথিওপিয়ার বাহিনী

ফাইল -ইথিওপিয়ার মেকেল শহরের একটি দৃশ্য।৫ জানুয়ারি ২০২০। (ছবি-েএএফপি/এডুয়ার্ডো সোটেরাস)

ইথিওপিয়ার বাহিনী বুধবার টিগ্রায়’এর উত্তরাঞ্চলের রাজধানী শহরে আরেকটি বিমান হামলা চালিয়েছে। বিমান হামলায় তিনজন শিশু নিহত হওয়ার দুই দিন পর একই স্থানে আবার হামলা চালালো ইথিওপিয়ার বাহিনী।

জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক মঙ্গলবার সংবাদদাতাদের জানান, মেকেলের উপকণ্ঠে বিমান হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। ফারহান হক বলেন, ঐদিন আরও পরে মেকেলেতে দ্বিতীয় বিমান হামলায় নয় জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।হামলায় বেশ কয়েকটি বাড়ি এবং কাছাকাছি একটি হোটেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মুখপাত্র বলেন, জাতিসংঘের সহকর্মীরা "দ্বন্দ্বের তীব্রতায় আতঙ্কিত। তারা আবারও দ্বন্দ্বে লিপ্ত সব পক্ষকে নাগরিকদের এবং বেসামরিক অবকাঠামো রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে তাদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।"

ইথিওপিয়ার সরকার প্রথমে সোমবারের হামলার কথা অস্বীকার করেছিল, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালিত ইথিওপিয়ার সংবাদ সংস্থা পরে বিমান হামলার কথা স্বীকার করে এবং বলে যে তারা যোগাযোগ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়,"মেকলেতে টিপিএলএফ (টিগ্রায় পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট)সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত মিডিয়া এবং সরঞ্জামগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে ঐ হামলা করা হয়েছিল"। টিপিএলএফ জোটের প্রাক্তন সদস্য যারা ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইথিওপিয়া শাসন করেছে। মে মাসে, ইথিওপিয়া দলটিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে।

টিপিএলএফ -এর মুখপাত্র গেটাচিউ রেদা ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে তিনি এই দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে অনিচ্ছুক। “তিনি কখনও শান্তির পক্ষে ছিলেন না, কেবল লাঠির যথাযথ ব্যবহার তাকে এই ধরনের পথ বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে। মঙ্গলবার একটি টুইটার পোস্টে গেটাচিউ লেখেন, “মেকেলেতে বেসামরিক লোকদের ওপর বিমান হামলা প্রমাণ করে যে তিনি আমাদের মানুষকে আতঙ্কিত করার জন্য সবকিছু করবেন। বিশেষ করে যখন তার বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে হেরে যাচ্ছে। "যদি মানুষের বিভ্রান্তি থাকে যে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে দ্বন্দ্ব সমাধানের জন্য প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারতেন তাহ’লে গতকালের হামলার মাধ্যমে এটা স্পষ্ট হওয়া উচিত যে তার জন্য শুধুমাত্র লাঠি কার্যকর।"

প্রায় এক বছর ধরে ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার উত্তরাঞ্চলীয় টিগ্রায় অঞ্চলের যোদ্ধাদের সঙ্গে সশস্ত্র সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে।

ইথিওপীয়ার বাহিনী ঐ এলাকা থেকে সরে যাবার পর এবং টিগ্রায় বাহিনী বেশিরভাগ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করার পর জুন থেকে এ পর্যন্ত মেকেলেতে বড় আকারের কোন যুদ্ধ হয়নি। এর পর, সংঘাত আমহার এবং আফারের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

টিগ্রায় বাহিনী গত সপ্তাহে জানিয়েছে যে ইথিওপীয়ার বাহিনী আমহারা থেকে তাদের হটিয়ে দিতে স্থলক্ষেত্রে হামলা শুরু করেছে।