তেহরান জরুরি পদক্ষেপ না নিলে পারমাণবিক চুক্তি ভেঙ্গে পড়তে পারে : যুক্তরাষ্ট্র

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় লোকেরা প্যালাইস কোবার্গের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে যেখানে বন্ধ দরজা পারমাণবিক আলোচনা হচ্ছে।১৭ ডিসেম্বর ২০২১।(ছবি-এপি/মাইকেল গ্রুবার)

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে ২০১৬ সালের পারমাণবিক চুক্তি পুনরায় চালু করার বিষয়ে ইরানের সঙ্গে তাদের সাম্প্রতিক পরোক্ষ আলোচনা যেটি শুক্রবার শেষ হয়েছে তাতে সামান্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে এটিও বলেছে যে তেহরান এবং বিশ্বশক্তিগুলির মধ্যে চুক্তিতে যা অবশিষ্ট আছে তা যাতে ভেঙ্গে না পড়ে সে লক্ষ্যে অনেক কাজ করা বাকি রয়েছে।

সংবাদদাতাদের সঙ্গে ফোনে এই আলোচনা সম্পর্কে কথা বলার সময় পররাষ্ট্র দফতরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আলোচনার অগ্রগতির দুটি উদাহরণ উল্লেখ করেছেন। এই আলোচনা হয়েছে ভিয়েনায় যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পাঁচটি বিশ্বশক্তির মধ্যে।

প্রথম অগ্রগতিটি ছিল ইরানের বুধবারের চুক্তি যা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে পুনরায় ক্যামেরা স্থাপন করার অনুমতি দেবে যাতে করে জাতিসংঘের পরিদর্শকরা কারাজ শহরে উন্নত সেন্ট্রিফিউজ তৈরির ইরানি পারমাণবিক স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করতে পারে।জুন মাসে এই ক্যামেরাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় যেটিকে ইরান তার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইসরাইলের নাশকতা বলে অভিহিত করেছে। ইসরাইল জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার কোনটাই করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা দ্বিতীয় উদাহরণের কথা যেটি বলেছেন তা হল একটি লিখিত বিবরণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের বোঝাপড়া । এটি তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিনিময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কোন অংশগুলিকে রোধ করা যেতে পারে সে বিষয়ে আলোচনার ভিত্তি হিসাবে কাজ করবে।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা ঐ লিখিত বিবরণী নিয়ে উৎসাহিত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন।

এই কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের কাছে যা আছে তা হল সমস্যাগুলির একটি তালিকা যা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। গ্রহণযোগ্য সমাধানের তালিকা নয়। এখনও অনেক কাজ বাকি আছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা আরও বলেছেন যে ইরানের পারমাণবিক কর্মকান্ডে যে সাম্প্রতিক অগ্রগতি হয়েছে তা অস্ত্রে পরিণত হতে পারে বলে পশ্চিমারা আশঙ্কা করছে এবং এই কারণে ২০১৫ সালের চুক্তি যা জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন নামে পরিচিত তাতে তেহরানকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা আরও জরুরি হয়ে পড়েছে।