বিশ্ব বাণিজ্যের উপর বার্ষিক প্রতিবেদনে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বলছে যে বিশ্বের অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান আন্তঃসংযোগের দু’টি দিক আছে।
যদিও এই বিশ্বায়ন বিভিন্ন দেশকে একক ভাবে স্বল্পমেয়াদের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে, তবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বলেছে, এটি তাদের অতীতের তুলনায় অনেক দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, করোনাভাইরাস মহামারীর প্রথম মাসগুলিতে পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্য তীব্রভাবে হ্রাস পাওয়ার পরে, ইতিমধ্যে তা এখন প্রাক-মহামারী স্তরের উপরে ফিরে এসেছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি নাগাদ, বাণিজ্যের পরিমাণ প্রাক-মহামারী সময়ের প্রবণতাতে পৌঁছুতে পারবে, যার অর্থ আন্তর্জাতিকভাবে যে পরিমাণ পণ্য কেনা-বেচা হচ্ছে, তা সেই মাত্রায় হবে যেটা অর্থনীতিবিদরা ভবিষ্যদ্বাণী করতেন যদি মহামারী না থাকত।
প্রতিবেদনের একটি মুখপাত্রে, ডব্লিউটিও’র মহাপরিচালক ডঃ এনগোজি ওকোনজো-আইওয়ালা বলেছেন, কোভিড-১৯ মহামারীর বিরুদ্ধে বিশ্ব যে ভাবে সাড়া দিয়েছে তা বর্ধিত বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ এবং সুবিধা, উভয়রই উদাহরণ।
ক্যাটো ইনস্টিটিউটের অর্থনৈতিক অধ্যয়নের একজন সিনিয়র ফেলো এবং বাণিজ্য বিষয়ক নিয়মিত লেখক স্কট লিনসিকোম, ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেছেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিশ্লেষণ যাচাই-বাছাইয়ে টিকে থাকে ।
লিনসিকোম বলেন, "আমরা মহামারী চলাকালীন এই বিষয়টি লক্ষ্য করেছি যে সে সব কোম্পানি আরও অভ্যন্তরীণ ভিত্তির উপর গঠন করা হয়েছিল তারা বিশ্বব্যাপী আরও বহুমুখী কোম্পানিগুলির চেয়ে ভাল করেনি।"
প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে একটি দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক যত বেশি বহুমুখী, তাদের অর্থনৈতিক অস্থিরতা অনুভব করার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য ভাবে তত কম।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল দ্বারা সংগৃহীত তথ্যের উপর ভিত্তি করে, বিশ্লেষকরা বলছেন যে, যেসব দেশ ২০০৮ সালে উচ্চ পর্যায়ের বহুমুখী বাণিজ্য করেছে সে দেশগুলো ২০১৮ সালে শেষ হওয়া ১০ বছরের সময়কালের গড় বার্ষিক মোট অভ্যন্তরীণ উত্পাদন পরিমাপ করলে দেখা যায় তারা অনেক কম অস্থিরতার শিকার হয়েছে।