মিয়ানমারের সামরিক জান্তা নেতার সঙ্গে দেখা করলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিক বিল রিচার্ডসন

মিয়ানমার মিলিটারি ট্রু নিউজ ইনফরমেশন টিমের প্রকাশিত এই ছবিতে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত বিল রিচার্ডসন মিয়ানমারের ন্যপিডতে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, সিনিয়র জেনারেল মিন অং  লেইং-এর সঙ্গে দেখা করেছেন। ২ নভেম্বর ২০২১। (ছবি-এপি/মিয়ানমার মিলিটারি)

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত বিল রিচার্ডসন, সংঘর্ষ-বিধ্বস্ত মিয়ানমারে এক মানবিক সফরে মঙ্গলবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির সামরিক শাসিত সরকারের প্রধানের সঙ্গে দেখা করেছেন।

মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিচার্ডসন কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সিনিয়র জেনারেল মিন অং লেইং-এর সঙ্গে আলোচনা করেছেন।এছাড়াও পররাষ্ট্র, স্বাস্থ্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা ঐ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভিতে সম্প্রচারিত সন্ধ্যার সংবাদে দেখানো হয়।

রবিবার রিচার্ডসনের এই সফর সম্পর্কে তার অফিস থেকে ঘোষণা করা হয়। তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয় যে তিনি "কোভিড -১৯ ভ্যাকসিন, চিকিৎসা সরবরাহ এবং অন্যান্য জনস্বাস্থ্যের প্রয়োজনে মানবিক বিতরণের পথ নিয়ে আলোচনা করতে দেশটিতে যাচ্ছেন।"

তবে, তার এই সফর আশা জাগিয়েছে যে রিচার্ডসন গত পাঁচ মাস ধরে মিয়ানমারে কারাগারে বন্দী আমেরিকান সাংবাদিক ড্যানি ফেনস্টারের মুক্তি চাইবেন।

ফেব্রুয়ারীতে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে সামরিক বাহিনী ক্ষমতাচ্যুত করার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিরোধের মধ্যে মিয়ানমারের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মূলত ভেঙে পড়েছে। চিকিৎসা কর্মীরা সামরিক শাসনের বিরোধিতার অগ্রভাগে ছিলেন।

মিয়ানমারের দারিদ্র্য এবং দেশের বিভিন্ন অংশে সরকার ও গণতন্ত্রপন্থী বিদ্রোহীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ভয়াবহ লড়াইয়ের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

গভর্নর রিচার্ডসনের অফিস থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে লেখা হয়, "গভর্নর রিচার্ডসন বিশ্বাস করেন যে, এই ধরনের সংকট এবং অস্থিতিশীলতার মুহুর্তে আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে মানবিক সাহায্য সবচেয়ে বেশি যাদের প্রয়োজনে তাদের কাছে যেন পৌঁছে দেয়া হয়।"

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে যে রিচার্ডসন নিজে থেকেই এই সফরে গিয়েছেন তবে আশা করা হচ্ছে যে তিনি মিয়ানমারের নেতাদের করোনাভাইরাস মহামারী এবং অন্যান্য জরুরী প্রয়োজনের জন্য সাহায্য প্রবেশের অনুমতি দিতে রাজি করাতে সাহায্য করতে পারবেন। সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের বৈধতাকে স্বীকৃতি দেয়া হবে এমন চিন্তা থেকে অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলির মতো যুক্তরাষ্ট্র সরকার মিয়ানমারে তাদের কর্মকর্তাদের পাঠানো থেকে বিরত থেকেছে।