বিক্ষোভকারীরা শনিবার একটি বেসামরিক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে সুদানের রাস্তায় নামে। পাড়াভিত্তিক কমিটিগুলো এবং অন্যান্য কর্মীর পরিকল্পনায় আয়োজিত শনিবারের মার্চ অফ মিলিয়নস বা 'লক্ষ মানুষের মিছিল' থেকে "ছেড়ে চলে যাও" স্লোগান দেয়া হয়।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুটেরেসের বিশেষ প্রতিনিধি ভলকার পার্থেস শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন তিনি "সাংবিধানিক দলিলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজনৈতিক সমাধানের সুবিধার্থে সব পক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগে রাখছেন।ইউনিটামস বা সুদানে ইউএন ইন্টিগ্রেটেড ট্রানজিশন অ্যাসিস্ট্যান্স মিশন বর্তমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের একমাত্র পথ হিসেবে বর্তমানে চলমান মধ্যস্থতাকারীর সাহায্যে সক্রিয়ভাবে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের জন্য সমন্বয় করছে।"
যুক্তরাষ্ট্র সোমবারের অভ্যুত্থানের নেপথ্যে থাকা সামরিক নেতাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে "যেকোনো এবং সমস্ত সহিংসতা" থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
সুদানের সামরিক নেতাদের কাছে আবেদনটি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
ঐ কর্মকর্তা বলেন, শনিবার "সামরিক উদ্দেশ্য কি তার একটি বাস্তব ইঙ্গিত পাওয়া যাবে।"
সুদানের চিকিৎসক কমিটির মতে, বিক্ষোভ চলার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত নয়জন নিহত ও অন্তত ১৭০জন আহত হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে শনিবারের বিক্ষোভের পর কিছু বাসিন্দা কঠোর দমনের আশংকা করছেন। খার্তুমে হাইথাম মোহাম্মদ বলেন, "শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বন্দুক দিয়ে মোকাবেলা করার বিষয়টি সহ্য করা উচিত নয়।" "এটি আমাদের পিছু হটিয়ে দেবে না; এটি কেবল আমাদের সংকল্পকে শক্তিশালী করবে।"
সুদানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা নিয়ে সামরিক ও বেসামরিক নেতাদের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর সামরিক দখলের ঘটনাটি ঘটে। এই অভ্যুত্থান প্রক্রিয়াটিকে লাইনচ্যুত করার হুমকি দিচ্ছে। ২০১৯ সালে সেনাবাহিনী একটি জনপ্রিয় বিদ্রোহের অবসান এবং দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে গণতন্ত্রের এই প্রক্রিয়াটি ধীর গতিতে এগিয়েছে।
সুদানের সেনা প্রধান জেনারেল আবদেল-ফাত্তাহ বুরহান মঙ্গলবার বলেন, গৃহযুদ্ধ এড়াতে সেনাবাহিনীর দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করা জরুরি ছিল।
গুটেরেস শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, "আমি সেনাবাহিনীকে সংযম দেখানোর জন্য অনুরোধ করছি এবং আর কোনো মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। জনগণকে অবশ্যই শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অনুমতি দিতে হবে। এবং এটি অবশ্যই হতে হবে।"
(এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য রয়টার্স থেকে নেয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র দফতরের ব্যুরো প্রধান নাইকি চিং এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য দিয়েছেন)