হেফাজতে ইসলামের রোববার সকাল-সন্ধ্যা দেশব্যাপী হরতালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুইজন নিহত হওয়া, দেশের বিভিন্নস্থানে ব্যাপক সংঘর্ষ, গুলি, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ, মহাসড়কসহ সড়ক অবরোধ, ট্রেনে হামলা, যানবাহন ভাঙচুর ও আগুন দেয়া এবং সহিংস বিক্ষোভসহ বিস্তর সহিংসতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে থানায় হামলা করা হয়। পুলিশের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষে ১২ বছরের এক কিশোরসহ দুই জন নিহত হয়েছেন। এ স্থানে হেফাজতের সদস্যরা ট্রেনে হামলা চালায় এবং এতে ১০ জন যাত্রী আহত হন। হেফাজত কর্মীরা কয়েকটি সরকারি অফিসে এবং প্রেসক্লাবে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে বেশ কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে লাঠি-সোটা হাতে দিনভর হেফাজত কর্মীরা সংঘর্ষ চালিয়ে যায়।
কিশোরগঞ্জে হেফাজত কর্মী-সমর্থকরা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেছে। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৫০ জন আহত হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে হামলায় কয়েকজনের নিহত হবার প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম হরতাল আহ্বান করে। এতে কয়েকটি ইসলামী দলও রাস্তায় নেমে সমর্থন জানায়।
দেশের বিভিন্নস্থান থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি এলাকায় পুলিশের সাথে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি মোতায়েন করা হয়। হেফাজতের হরতাল ঠেকাতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগসহ এর অঙ্গ সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের মাঠে দেখা যায়। হরতালকারীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে এবং মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে সংঘর্ষ হয়। ঢাকার সাথে অনেক স্থানের দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল সাময়িক বন্ধ থাকে।
নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এছাড়া সিলেটসহ বিভিন্নস্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষ আহত হন।
রাজধানী ঢাকায় যানবাহন চলাচল অন্যান্য দিনের তুলনায় ছিল অনেক কম। ঢাকায় অফিস-আদালত চলেছে। ঢাকায় মোহাম্মদপুর, লালবাগ, বসিলা, বায়তুল মোকাররম, পল্টনসহ কয়েকটি এলাকায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে উশৃঙ্খলতা বন্ধ করার হুশিয়ারি দিয়েছেন। হেফাজত নেতারা আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মসূচি দেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ....ঢাকা থেকে আমীর খসরু