বিশ্বের ১৬টি দেশকে ধর্মীয় স্বাধীনতার নিরিখে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে ২০১৯ সালের বার্ষিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেলিম হোসেন জানাচ্ছেন বিস্তারিত।
ইউএস Commission on International Religious Freedom (USCIRF) এর এই রিপোর্টে গোটা বিশ্বের কোথায় কোথায় মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা কেমন, কোন কোন দেশে মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা কম এসবের নিরিখে ২টি ভাগে ভাগ করে টিয়ার-১ ও টিয়ার ২ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
টিয়ার ১ এর আওতায় ধর্মীয় স্বাধীনতা সবচেয়ে উদ্বেগজনক দেখিয়ে ১৬টি দেশের নাম প্রকাশ করা হয়। সেসব দেশে মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে- Burma, China, Eritrea, Iran, North Korea, Pakistan, Saudi Arabia, Sudan, Tajikistan, Turkmenistan, Central African Republic (CAR), Nigeria, Russia, Syria, Uzbekistan, এবং Vietnam.
টিয়ার ২ এর আওতায় যেসব দেশে মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা কঠোরভাবে না হলেও, মোটামুটিভাবে দমন করা হচ্ছে। এর আওতায় ১২টি দেশ রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- Afghanistan, Azerbaijan, Bahrain, Cuba, Egypt, India, Indonesia, Iraq, Kazakhstan, Laos, Malaysia এবং Turkey
এছাড়া এ বছরের ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতিবেদনে ২৮টি দেশে, যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারনে অনেককে শাস্তি পেতে হয়, তাদের জন্য কংগ্রেস যেনো বিশেষভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতিমালা বিষয়ক পরামর্শ দেয় সে বিষয়ে বিশেষ পরামর্শ দেয়া হয়। USCIRF Chair Tenzin Dorjee বলেন আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্বকারীদের সাবধান করা নয়; যুক্তরাষ্ট্র সরকার যেনো তাদেরকে শুধরে দেয়ার জন্য পরামর্শ দেয়, নানাভাবে সহায়তা করে যাতে তারা আমাদের এই তালিকা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়, সেটা নিশ্চিত করা।
যেসব উপাদান ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার বিষয়কে প্রভাবিত করে তা হচ্ছে: ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক ষ্টেট, আফগানিস্তানে তালিবান, সোমালিয়ায় আল শাবাব, ইয়েমেনে হুতি এবং সিরিয়ায় হেয়াট তাহরির আল শাম (HTS).
তেনজিন দরজি বলেন দেশে দেশে মানুষের মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি নিরাপত্তা, স্থিতি ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা থাকা প্রয়োজন। গত বছর মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতার অবস্থা আরো খারাপ ছিলো। চীনে ১০ লাখ উইঘোর মুসলিম নির্যাতিত, বহু দেশে এখনো ব্লাসফেমী প্রচলিত, এসব দূর করে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা দরকার। USCIRF স্বাধীনতা লংঘিত হয়েছেন যারা তাদের ডাটাবেজ তৈরি করছে।