ব্রেক্সিট সঙ্কট জিইয়ে রেখেই কার্যকর হচ্ছে বৃটিশ পার্লামেন্ট স্থগিতের ঘোষণা। সোমবার রাতে আগাম নির্বাচন নিয়ে ভোটের পরই পাঁচ সপ্তাহের জন্য স্থগিত হয়ে যাচ্ছে সংসদের কার্যক্রম। এ অবস্থায় পার্লামেন্টে কোনো বিল পাসের সুযোগ থাকবে না। ৩১শে অক্টোবরের মধ্যেই ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করতে চান বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এ প্রক্রিয়ায় এমপিরা যাতে বাধার সৃষ্টি করতে না পারেন তা নিশ্চিত করতেই পার্লামেন্ট স্থগিতের আগাম ঘোষণা দেন তিনি। তার ওই ঘোষণার পরপরই দ্রুত পদক্ষেপ নেন বিরোধীরা। পার্লামেন্টে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে বিল পাস হয়। বিল অনুসারে, আগামী ১৫ই অক্টোবরের মধ্যে পার্লামেন্ট কোনো চুক্তিতে সম্মত না হলে বা চুক্তিহীন ব্রেক্সিটে সমর্থন না দিলে ব্রেক্সিটের সময়সীমা পেছাতে অনুরোধ করতে হবে জনসনকে। রোববার চ্যান্সেলর সাজিদ জাভিদ নিশ্চিত করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী ইইউ’কে ব্রেক্সিট পেছাতে অনুরোধ করবেন না।
চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে বিরোধীদের বিলের পক্ষ নেয়ায় দলের ২১ জন এমপিকে বহিস্কার করেছেন জনসন। এ ইস্যুতে মন্ত্রী অ্যাম্বার রাড ও জনসনের ভাই জো জনসন পদত্যাগ করেছেন। এমন অবস্থার মধ্যেই আয়ারল্যান্ড সফর করছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী। ডাবলিনে দেয়া বক্তব্যে জনসন অবশ্য সুর পাল্টে বলেছেন, চুক্তিহীন ব্রেক্সিট হবে একটি ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী থাকবে বৃটিশ ও আইরিশ সরকার। এখনো ব্রেক্সিট ইস্যুতে একটি চুক্তি করা সম্ভব। তবে ইইউ’কে ব্রেক্সিট কার্যকরের সময়সীমা পেছাতে অনুরোধ করবেন না তিনি। আইরিশ প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকার বলেছেন, আরো একবার ব্রেক্সিট পেছানোর পক্ষে তিনি।
মতিউর রহমান চৌধুরী, লন্ডন