অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

এবার জাতীয় শোক দিবসে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করবে না বিএনপি


ফাইল ফটোঃ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ঢাকার একটি আদালতে হাজিরা শেষে চলে যাবার সময় জনগনের উদ্দেশ্যে হাত নাড়ছেন। জুন ০২, ২০১৬।

এবার ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসে দলের চেয়ারপার্সনের জন্মদিনের নামে কোন কর্মসূচী রাখবে না বিএনপি । দলের একাধিক নেতা এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শোক দিবসে জন্মদিন পালন করা নিয়ে অনেক দিন থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মাঝে বিতর্ক ছিলো। দুই দলের নেতারা বিভিন্ন সময়ে বিতর্কও করেছেন। প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু বিএনপি’র আচরণকে অসুস্থ মানসিকতা বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজম বলেন, শোক দিবসে যেকোন বাড়াবাড়ির কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এদিকে বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবার তারা কোন অনুষ্ঠান রাখবে না। বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে কোন অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জন্মদিন বিতর্কে আওয়ামী লীগ অতীতের চেয়ে এখন অনেক বেশি কঠোর অবস্থানে। গত কয়েক বছরে সারাদেশে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে শোক দিবসে জন্মদিন করা নিয়ে ৮টি মামলা করেছে আওয়ামী লীগের কর্মীরা। উচ্চ আদালত জন্মদিনের সকল নথি তলব করেছে। আওয়ামী লীগ কর্মীদের করা মামলায় বলা হয়েছে, এসএসসি পরীক্ষার মার্কশিট অনুযায়ী খালেদা জিয়ার জন্মতারিখ ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে খালেদা জিয়ার জীবনী পাঠানো হয়। এতে জন্মদিন লেখা হয়, ১৯৪৫ সালের ১৯ আগষ্ট। জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিয়ের কাবিননামায় জন্মদিন লেখা আছে, ১৯৪৪ সালের ৪ আগষ্ট। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ আগষ্ট বলে উল্লেখ রয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের আগে বিএনপি কখনোই খালেদা জিয়ার জন্মদিনের কোন অনুষ্ঠান করেনি। ১৯৯৬ সালের ১৫ আগষ্ট বিএনপি প্রথম খালেদা জিয়ার জন্মদিন আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন শুরু করে। আর ১৫ আগষ্ট জন্মদিনের কথা প্রথম জানা যায় ১৯৯১ সালের মেয়াদে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় প্রধানমন্ত্রীর দুই উপ-প্রেস সচিব সৈয়দ আবদাল আহমেদ ও আপেল আবদুল্লার লেখা ‘নন্দিত নেত্রী খালেদা জিয়া’ গ্রন্থে। তারা খালেদা জিয়ার বোনের বরাত দিয়ে শোক দিবসে জন্মদিনের কথা লেখেন। ১৯৯৬ সালে প্রথম জন্মদিনের অনুষ্ঠান করার পর আওয়ামী লীগ তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়েছিলো। পরবর্তীতে দুটি দলের মাঝে এই নিয়ে দুরত্ব বাড়তে থাকে। হিংসা প্রতিহিংসার রাজনীতির বিকাশ ঘটতে থাকে।

কিছুদিন আগে বাস্তবতা অনুধাবন করে মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসে জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেন বিএনপিকে। বিএনপি এরপর জাফরুল্লার সমালোচনা করে।

প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের পর থেকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা ইতিহাস বিকৃতির সূচনা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ভুয়া জন্মদিন অনুষ্ঠান তারা শুরু করে। তিনি পুরো বিষয়টিকে নোংরা ও অসুস্থ রাজনীতি হিসাবে আখ্যায়িত করেন। গতকাল এই ব্যাপারে প্রশ্ন করলে বিএনপি’র একজন প্রবীন নেতা নাম প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, অতি উৎসাহীদের নানামুখি কান্ডের খেসারত আজ দিতে হচ্ছে। বিএনপি’র আরেকজন প্রবীন নেতা লে.জেনারেল অব.মাহবুবুর রহমান একাধিকবার এইভাবে জন্মদিন পালনের সমালোচনা করেন। ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ জীবিত থাকাকালে এইব্যাপারে তার ভিন্নমতের কথা নিজের লেখা আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেন। শুধু মওদুদ, মাহবুব নন, বিএনপি’র অনেক নেতা কর্মীও এখন এই ধরনের বিতর্কে যাওয়ার বিপক্ষে প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য বলছেন।

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেছেন,ম্যাডাম খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার আগে থেকেই ১৫ আগষ্ট জন্মদিন পালন করেন না। আগেও তিনি করতে চাইতেন না। নেতাকমীদের জোরাজুরিতে অনেকটা বাধ্য হয়ে করতেন। গত তিন বছর কোন কেক কাটা হয় না। ঐ দিন তাঁর সুস্থতা কামনা করে দোয়া করা হয়। এবারও জন্মদিনে কেক কাটা বা কোন অনুষ্ঠান করা হবে না। আমরা তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া করব।

আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু বলেন, বিএনপি এই ব্যাাপারে তাদের অবস্থান আর স্পষ্ট না করলে ইতিহাসের আস্তাকুড়েঁ নিক্ষিপ্ত হবে। আওয়ামী লীগের ৬ বারের এমপি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজম বলেন, নোংরামি বন্ধ না করলে পরিণতি ভালো হবে না। কঠোর ভাষায় সবকিছুর জবাব দেওয়া হবে।

XS
SM
MD
LG