অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ছাত্র বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার


আটককৃত মাওলানা হাজী নূর মোহাম্মদ আজমী

শনিবার রাতে মাওলানা হাজী নূর মোহাম্মদ আজমী নামে একজন মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে আটক করেছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ পুলিশ। ষাটেরও বেশি বছর বয়সী মাওলানা নূর স্থানীয় জাফরাবাদ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিজের অধীনস্থ মাদ্রাসার ছাত্রকে বলাৎকারের।

ভুক্তভোগী ছাত্র তার বাবার কাছে ৪ আগস্ট মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। এরপরই অভিযোগকারীর বাবা তার ছেলেকে মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। তিনি অভিযোগ করেন করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। পাশাপাশি মামলাও করেন। এরপরই পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

শুধু করিমগঞ্জ নয়, এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে বাংলাদেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায়। বিশেষ করে ২০২০ সালে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উত্থাপিত হয়। ২০২০-এর ২০ অক্টোবর চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়াতে নাছির নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে পুলিশ আটক করে। আদালতে এই শিক্ষক নিজেই স্বীকার করেন, সিরিয়াল বলাৎকারের ঘটনাগুলো। বিকৃত এই নেশায় মাওলানা নাছির ছিলেন রাঙ্গুনিয়া আহমেদিয়া আজিজুল উলুম মাদ্রাসার হোস্টেল সুপার। প্রতি রাতে ছাত্রদের নিজের কক্ষে ডেকে নিতেন এবং তার সঙ্গে থাকতে বাধ্য করতেন। নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার জামিয়া মাহমুদিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের তাওহিদ নামের এক শিক্ষককে ছাত্রের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আটক করে ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। একই বছর ২৭ নভেম্বর ময়মনসিংহের গৌরীপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসা-প্রধান বাকী বিল্লাহ মানিককে পুলিশ আটক করে। পুলিশ বলেছে, মাদ্রাসার ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাতেন শিক্ষক। ২০২০ সালের নভেম্বরে মাদ্রাসার ছয় ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে লক্ষ্মীপুরে মৌলভী মোবারক হোসেনকে আটক করা হয়। একই বছর ডিসেম্বরে নোয়াখালীর একটি মাদ্রাসার একজন শিক্ষককে আটক করা হয়। শুধু নোয়াখালীর ঘটনা নয়, ২০২০ সালে মোট ১৮ মাদ্রাসা শিক্ষককে একই অভিযোগে আটক করা হয়। চলতি বছর আটক করা হয় চারজনকে।

দীর্ঘদিন থেকে এ ধরনের অভিযোগ মাদ্রাসার কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপন করা হলেও প্রকাশ্যে কেউ অভিযোগ করত না। ধর্মের নামে ভীতি তৈরি করে অপকর্মগুলো করা হতো। শুধু ছেলেদের মাদ্রাসা নয়, মেয়েদের মাদ্রাসাগুলোতেও ধর্ষণের অভিযোগে বেশ কয়েকজন শিক্ষক আটক হয়েছেন। আটক শিক্ষকরা এখন কারাগারে রয়েছেন। রাজধানীর যাত্রাবাড়ি ও কিশোরগঞ্জের দুটি মহিলা মাদ্রাসা থেকে সিরিয়াল ধর্ষক আটক হয়েছিলেন।

বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনাকে দুঃখজনক মনে করেন বিশিষ্ট আলেম,হাফেজ মাওলানা জিয়াউল আহসান। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় যারা জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নিতে হবে। দুনিয়া আখেরাত কোথাও তাদের ঠাঁই নেই। মাদ্রাসা শিক্ষাকে শেষ করে দিচ্ছে এমন কিছু লোক। তাদের ব্যভিচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে সারাদেশে গোয়েন্দা তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাজধানীর বারিধারা মাদ্রাসার শিক্ষক বিশিষ্ট আলেম মুফতি আমজাদ হুসাইন এ ধরনের ঘটনাকে চরম ইসলামবিরোধী আখ্যায়িত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি মাদ্রাসাগুলোতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাড়ানোরও পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সকল অপরাধই সমান।

আইনগতভাবে বলাৎকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোন বাঁধা নেই বলে জানান এডভোকেট মনজিল মোর্শেদ। তিনি বলেন, বলাৎকার ও ধর্ষন পৃথকভাবে দন্ডবিধিতে চিহ্নিত করা আছে।

XS
SM
MD
LG