অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিণতি নিয়ে জাতিসংঘের চিঠির জবাব দেবে বাংলাদেশ


জাতিসংঘ লোগো

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে গুম হওয়া ব্যক্তিদের অবস্থান ও পরিণতি জানতে চেয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের চিঠির জবাব দেবে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এম এ মোমেন ভয়েস অব আমেরিকাকে বলেন, আমরা কোনো কিছু হাইড করি না, করব না। অবশ্যই জবাব দেব। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। উত্তর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতিসংঘে জবাব পাঠানো হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো চিঠির জবাব ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড দেয় না। মিয়ানমার পাত্তাও দেয় না। আমরা সজাগ আছি বলে উত্তর দিই। আর উত্তর দিই বলে তারা আমাদের ওপর ভর করে। যারা জবাব দেয় না তাদের কিছু বলে না।

Foreign Minister A. K. Abdul Momen
Foreign Minister A. K. Abdul Momen

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর পুলিশের সংশ্লিষ্ট শাখা ৩৪ জনের বিষয়ে তাদের প্রতিবেদন তৈরির কাজ শুরু করেছে। দ্রুত এই কাজ সম্পন্ন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার যে কোনো ঘটনার জবাব দিয়ে থাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের এ ধরনের চিঠির বিষয়ে আরও ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, যে দেশগুলো উত্তর দেয় না তাদের বিষয়ে কেউ কথা বলে না।

জাতিসংঘের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা নামের বেশির ভাগই বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্য। এই তালিকাতে আছেন চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম, আবদুল কাদের ভঁইয়া, মো. কাউসার হোসেন, মোহাম্মদ ফকরুল ইসলাম, আল আমীন, সোহেল রানা, মোহাম্মদ হোসেন চঞ্চল, পারভেজ হোসেন, মাহফুজুর রহমান, জহিরুল ইসলাম, নিজাম উদ্দিন, মীর আহমাদ বিন কাশেম, মাহবুব হাসান সবুজ, কাজী ফরহাদ, সম্রাট মোল্লা, তপন দাশ, কে এম শামীম আক্তার, খালেদ হাসান সোহেল, আবদুল্লাহ আজমি, এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন, মো. হাসিনুর রহমান, রাজু ইসলাম, ইসমাইল হোসেন, মো. তারা মিয়া, মোহাম্মদ নুর হোসেন, মোহন মিয়া, ইফতেখার আহমেদ দিনার, ইলিয়াস আলী, কেইথিলপাম নবচন্দ্র, সেলিম রেজা পিন্টু ও জাহিদুল করিম। কেইথিলপাম নবচন্দ্র বাংলাদেশের নাগরিক নন। তিনি ভারতের মনিপুরের বিচ্ছিন্নতাবাদী একটি দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে আটক হন।

বাংলাদেশের একজন মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন। তিনি এ বিষয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে তিনি বলেছেন, গুমের মতো অপরাধকে রাষ্ট্রের পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ভুক্তভোগীদের কী হয়েছে জনগণকে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে জানানো দরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বন্ধ করার কোনো পদক্ষেপ দেখিনি। বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি নিয়ে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। সরকার ও রাষ্ট্র তার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কথা উঠবে। তিনি জাতিসংঘের চিঠিকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, অনেক দেশের গুম খুন নিয়ে জাতিসংঘ কথা বলে না। এনজিওরা চুপ থাকে। মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন করে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সব সময় সবকিছু গুরুত্ব নিয়ে দেখে। কেউ অভিযোগ করলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে দেখে। ব্যবস্থা নেয়। এতেই সবাই পেয়ে বসে। সবকিছুকে দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

XS
SM
MD
LG