অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইইউ কেন দক্ষিণ চীন সাগর বিরোধে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পক্ষে


দক্ষিণ চীন সাগর, ছবি-রয়টার্স

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরা বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরে উন্মুক্ত প্রবেশাধিকারকে আরো বেশি গুরত্ব দেবে, যা কিনা বিশ্ব বাণিজ্যের একটি প্রধান পথ, দক্ষিণ -পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সাথে আলোচনা করে, বিশ্লেষকরা তাই মনে করেন। যদিও চীনের দাবি দক্ষিণ চীন সাগরের বেশির ভাগই তাদের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন ফ্রান্স এবং জার্মানির মতো ইইউ’র ২৭ টি সদস্য রাষ্ট্র আশা করে যে, দেশগুলো দক্ষিণ চীন সাগরে জাতিসংঘের সমুদ্র সম্পর্কিত নিয়ম মেনে চলবে যাতে অন্যান্য বিশ্ব জলপথের সাথে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা যায় এবং এশিয়ার সঙ্গে সমুদ্র বাণিজ্য রক্ষা করা যায়।

চীন ৩.৫ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার সমুদ্রের প্রায় ৯০ শতাংশ দাবি করে, যার মধ্যে জাতিসংঘের নির্ধারিত চারটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে। চীনা কর্মকর্তারা তাদের দাবি সমর্থন করার জন্য সাম্রাজ্যকালের নৌ-নথিপত্রের কথা উল্লেখ করেন ।

ইইউ নেতারা দক্ষিণ চীন সাগর বিষয়ক আলোচনার জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জোটের ১০টি দেশের সাথে আগস্টের শুরুতে বৈঠক করেছিলেন এবং এই প্রান্তিকে উভয় পক্ষের আবার বৈঠক হওয়ার কথা। ইইউ, আসিয়ান এর অন্যান্য প্রধান দেশ ও অঞ্চলের সাথে সংলাপের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে, ১৯৭৭ সাল থেকে দক্ষিণ -পূর্ব এশীয় সমিতির সাথে বৈঠক করে আসছে।

আসিয়ান, ইউরোপের বাইরে, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরে, ইউরোপের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। গত বছর ২ লক্ষ ২১ হাজার কোটি ডলারের বেশি পণ্যের বাণিজ্যে করেছে আসিয়ান।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের অনুমান অনুয়ায়ী, সমুদ্র বাণিজ্যের প্রায় ৬০ শতাংশ এশিয়া দিয়ে যায় এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে যায়। এই সমুদ্র পূর্ব এশিয়া এবং ভারত মহাসাগরের মধ্যে একটি সংযোগকারী পথ। সেখান থেকে জাহাজগুলো ইউরোপে যায়।

ইন্দো প্যাসিফিকের বর্তমান গতিশীলতা তীব্র ভূ -রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার জন্ম দিয়েছে, যা বাণিজ্য এবং সরবরাহ চেইনের উপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত, রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

ইইউ বা তার কোনো সদস্য দেশ দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে না। আসিয়ানের সদস্য ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন এবং ভিয়েতনাম, চীনের নিজস্ব সীমানা রেখাকে অতিক্রম করে, সমুদ্রের কিছু অংশকে নিজেদের বলে দাবি করে, এবং তাইওয়ান এর প্রায় সবটাই দাবি করে।

ফ্রান্স, জার্মানি এবং ব্রিটেন, যে দেশটি ইইউ ‘এর সদস্য নয়, প্রায় এক বছর আগে জাতিসংঘে সমুদ্রপথে চীনের দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি জারি করেছিল। কারণ চীনের এই দাবিকে তারা সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বানিজ্যের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখে।

XS
SM
MD
LG