অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনকে অগ্রাধিকার দিতে মিয়ানমারের প্রবাসী সরকারের প্রতিশ্রুতি


বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার ভাসান চর দ্বীপে যাওয়ার পথে নৌবাহিনীর জাহাজে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা অপেক্ষারত । ২৯ ডিসেম্বর, ২০২০, রয়টার্স/মোহাম্মদ পনির হোসেন

মিয়ানমারের প্রবাসী ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট বা এনইউজি বলেছে দেশে অবস্থানরত এবং প্রতিবেশী দেশসমুহে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সকল মৌলিক অধিকারসহ এবং মর্যাদা পূর্ণভাবে স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে প্রত্যাবাসন করার বিষয়টিকে তারা ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।

২০১৭ সালের ২৫শে আগস্ট রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর নৃশংসতার এবং অত্যাচারের চতুর্থ বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার দেয়া এক বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করে এনইউজি বলেছে তারা বিশ্বাস করে ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনটি বাতিল করা হলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে তা সহায়ক ভূমিকা রাখবে। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের দুর্দশার মুল কারণগুলোকে শনাক্ত করে সেগুলোর সমাধানের গুরুত্ব সম্পর্কে এনইউজি সজাগ রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করে বলা হয় প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সংস্থা সমূহের বিভিন্ন সুপারিশ এবং রোহিঙ্গাদের মতামতের ভিত্তিতে এর সমাধান করা হবে।

এনইউজি ফেডারেল ডেমোক্রেটিক চার্টারে অন্তর্ভুক্ত মৌলিক নীতির প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুণঃব্যক্ত করে বলেছে এর মধ্যে রয়েছে মিয়ানমারের সকল নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা। সেইসাথে তারা মিয়ানমারে এমন একটি ফেডারেল গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করতে চায় যেখানে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার কখনোই পুনরাবৃত্তি হবে না বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে এনইউজি বলেছে তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ফেডারেল গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশটিতে সকল জাতিগোষ্ঠী শান্তিপূর্ণভাবে একসাথে বসবাস করতে পারবে। দেশ ও সকল জাতিগোষ্ঠীর জন্য স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে এনইউজি সকলের সাথে সেই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় ।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে রোহিঙ্গা এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নিপীড়ন এবং অন্যান্য সকল অপরাধের ন্যায়বিচার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তারা তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। সত্য এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা জরুরি বলে উল্লেখ করে এনইউজি বলেছে তারা বিশ্বাস করে পূর্বের অপরাধের বিচার হলে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন নৃশংসতা করার সাহস পাবে না। বিবৃতিতে বলা হয়েছে এনইউজি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রেজিস্টারের কাছে একটি ঘোষণা দাখিল করেছে যাতে তারা ২০০২ সালের পহেলা জুলাই এর পর থেকে মিয়ানমারে যে সকল আন্তর্জাতিক অপরাধ সংগঠিত হয়েছে তাতে আদালতের এক্তিয়ারকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, চার বছর আগে ২০১৭ সালের এই দিনে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক বাহিনী সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা চালিয়ে হত্যা, ধর্ষণ এবং ঘর-বাড়িতে অগ্নি সংযোগ শুরুর পর প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ ভয়ে বাংলাদেশে দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের কক্সবাজার জেলায় আশ্রয় নেন। এর আগেও রোহিঙ্গারা বেশ কয়েক দশক ধরেই মিয়ানমারে পদ্ধতিগত ভাবে বৈষম্য, ভোটাধিকার হরণ, নিয়মিত সহিংসতার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছিলেন।

২০১৭ সালের আগস্টের ভয়াবহ সহিংসতার চার বছর এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার মামলা করার প্রায় দুই বছর পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন বা সেখানে তাদের নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তার ব্যাপারে সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন মিনায়মারে সরকারের পরিবর্তন হলেও প্রত্যাবাসন নিয়ে তিনি আশাবাদী। আগে যখন মিয়ানমারে সামরিক সরকার ছিল তখন ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্ভব হলে এখন কেন হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

XS
SM
MD
LG