অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যায় জঙ্গিদের দায়ী করলেন মুহিবুল্লাহর ভাই


ফাইল ফটো ৭ এপ্রিল ২০১৯ ঃ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস-এর নেতা মুহিবুউল্লাহ বাংলাদেশের কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে অন্যান্য রোহিঙ্গা দের সাথে কথা বলেছেন রয়টার্স

রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নিহত নেতা মুহিবুল্লাহর ভাই বৃহস্পতিবার তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য জঙ্গিদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে তাঁর জনপ্রিয়তা এবং রোহিঙ্গাদের অধিকারের নিয়ে কাজ করছিলেন বলেই জঙ্গীরা তাকে হত্যা করেছে।

২০১৭ সালে সহিংসতার কারণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার পর বাংলাদেশের শরনার্থী ক্যাম্পে থাকা প্রায় ৮ লক্ষ ৫০ হাজার রোহিঙ্গার কাছে মুহিবুল্লাহ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের অন্যতম একজন বিশিষ্ট প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন।

অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকধারীরা বুধবার রাতে তাকে গুলি করে হত্যা করার পর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পে শত শত অতিরিক্ত সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করে।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার কুতুপালং প্রধান ক্যাম্পে ২৫হাজার মানুষ তাঁর জানাযায় অংশ নেন। তবে আরেক রোহিঙ্গা নেতা নাজির হোসেন অবশ্য বলেছেন যে সেখানে ২ লক্ষ মানুষ ছিল।

হাবিবউল্লাহ এএফপিকে বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি তার ভাইকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে এবং ঐ দলের অন্তত আটজন সদস্য হামলায় অংশ নিয়েছিল।

তিনি বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এআরএসএ বাহিনী। তারা প্রায়ই আমার ভাইকে হত্যার হুমকি দিত।” “এআরএসএ শুধু আমাদের ভাইকে নয় তারা আমাদের মহান নেতাকে হত্যা করেছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, মুহিবুল্লাহ তার অফিসের বাইরে যখন অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তখনই ঐ আক্রমণ ঘটে। ঐ হামলায় অন্তত চারজন অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকধারী জড়িত।

৪৮ বছর বয়সী মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গা সম্প্রদায় ভিত্তিক অধিকার গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) গঠন করে ছিলেন। তারা ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নৃশংস অত্যাচারের ঘটনা তুলে ধরেছিল।

ঐ নৃশংস সামরিক অভিযানের ফলে দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়িত বেশির ভাগ মুসলিম সংখ্যালঘু লক্ষ লক্ষ মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। গত চার বছর পরেও তারা স্বল্পপরিসরের অপরিচ্ছন্ন শরণার্থী শিবিরে বাস করছে।

XS
SM
MD
LG