আফ্রিকা সফরের শেষ ভাগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন সেনেগালে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই সপ্তাহের শুরুতে বলেছিল, " দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব পূণর্নিশ্চিত করার জন্য ব্লিংকেন সেনেগাল সফর করবেন”।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, “আমাদের দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব পুনঃনিশ্চিত করতে”শনিবার ভোরে ডাকারে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ব্লিংকেন সেনেগালের প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সালের সাথে দেখা করেছেন ।
নাইজেরিয়ার আবুজায় শুক্রবার একটি বক্তৃতায়, ব্লিংকেন আফ্রিকার প্রতি বাইডেন প্রশাসনের নীতির রূপরেখা তুলে ধরেন, ঘোষণা করেন যে যুক্তরাষ্ট্র আফ্রিকান দেশগুলিকে সমান অংশীদার হিসাবে দেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি মহাদেশে তার প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে যে মহাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী চীন থেকে বেশিরভাগ বৈদেশিক সহায়তা পায়।
মহাদেশটির রাস্তা, রেলপথ এবং বাঁধ নির্মাণের মতো বিশাল অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য সেখানে বার্ষিক কোটি কোটি ডলারের প্রয়োজন। বিগত এক দশকে, আফ্রিকা যে অবকাঠামোগত অর্থায়ন পেয়েছে তার বেশিরভাগই চীন দিয়েছে।
চীনের উল্লেখ না করেই, ব্লিংকেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র শুধুমাত্র স্বচ্ছ এবং স্বেচ্ছাসেবী বৈশ্বিক অবকাঠামো চুক্তিতে সম্মত হবে যা মহাদেশে বাস্তব সুবিধা নিয়ে আসবে।
ব্লিংকেন বলেছেন, “প্রায়শই আন্তর্জাতিক অবকাঠামো চুক্তিগুলো অস্বচ্ছ, জোরপূর্বক;সেগুলো নিয়ন্ত্রণহীন ঋণের মাধ্যমে দেশগুলির উপর ঋণের বোঝা চাপায় এবং পরিবেশগতভাবে ধ্বংসাত্মক । এ রকম চুক্তি সবসময় সেখানকার বসবাসকারী লোকদের উপকারে আসে না। তবে আমরা এ বিষয়গুলো ভিন্নভাবে করব।
সেনেগালে ব্লিংকেন’এর সফরের মাধ্যমে আফ্রিকায় তাঁর পাঁচ দিনের বহুজাতিক সফর শেষ হলো। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এটাই তার প্রথম সফর সে অঞ্চলে। তিনি শুক্রবার বলেছিলেন যে তার সফরের লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সুরক্ষা, জলবায়ু সংকট মোকাবেলা, জ্বালানি শক্তি সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত করা এবং শান্তি ও নিরাপত্তা অর্জনের বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।