আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ এই বছর বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির যে পূর্বাভাস আগে দিয়েছিল, তা আরও কমিয়েছে। এর অন্যতম কারণ হিসাবে সংস্থাটি করোনা ভাইরাসের ওমিক্রন প্রকরণের বিস্তারকেই উল্লেখ করেছে।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকের ত্রৈমাসিক আপডেটে, আইএমএফ প্রাক্কলন করেছে, বিশ্ব অর্থনীতি ২০২২ সালে ৪.৪% প্রসারিত হবে, যা এক বছর আগে ৫.৯% এবং অক্টোবরে ৪.৯% প্রবৃদ্ধির হারের পূর্বাভাসের চেয়ে কম।
প্রতিবেদনে জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের জন্য আগেকার পূর্বাভাসের চেয়ে আরো অনেক বেশী মন্দা এই বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমে যাওয়ার কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইএমএফ তার প্রতিবেদনে বলেছে, “বিশ্ব অর্থনীতি ২০২২ সালে পূর্বের প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল অবস্থানে প্রবেশ করবে। নভেম্বরের শেষের দিকে ওমিক্রন প্রকরণের উত্থান এই সম্ভাব্য পথটিকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে”।
১৯০টি দেশে ঋণদানকারী সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তার বৃদ্ধির অক্টোবরে দেয়া পূর্বাভাস ৫.২% থেকে কমিয়ে ৪% করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে, কারণ প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিশাল বিল্ড ব্যাক বেটার সোশ্যাল পলিসি বিল কংগ্রেসে স্থবির হয়ে পড়েছে।
আইএমএফ বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর আর্থিক নীতি এবং সরবরাহ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সমস্যা, যা যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাতারা এবং অন্যান্য ব্যবসায়ীদের জর্জরিত করেছে তাও সংশোধিত পূর্বাভাসের কারণ ছিল।
সংস্থাটি এই বছর চীনের প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা কমিয়ে ৪.৮% করেছে, যা গত বছরের ৮.১% পূর্বাভাসের চেয়ে নাটকীয়ভাবে কম এবং অক্টোবরের প্রত্যাশার চেয়ে প্রায় ১% কম।
গত বছর বিশ্ব অর্থনীতি প্রায় ৬% সম্প্রসারিত হওয়ার পরে, মঙ্গলবারের আইএমএফ এর রিপোর্টে প্রায় প্রতিটি দেশের জন্য প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন কমানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম ছিল ভারত, যেখানে আইএমএফ তার প্রাক্কলিত বৃদ্ধির হার ০.৫% থেকে নয় শতাংশ বাড়িয়েছে।