অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। (ছবি- ইউএনবি)

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শনিবারও (২৯ জানুয়ারি) অব্যাহত ছিল। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা এদিন ক্যাম্পাসে আবৃত্তি-গান পরিবেশনার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালান।

সিলেট থেকে বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে শনিবার রাত ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে গান-কবিতা আবৃত্তি করেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুপুর ১২টার দিকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালান শিক্ষার্থীরা। তারা গোলচত্বর এলাকাসহ ফুডকোর্ট এলাকা ও মুক্তমঞ্চের আশপাশের ময়লা–আবর্জনা পরিষ্কার করেন।

এদিকে শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) শিক্ষার্থীরা এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ক্যাম্পাস ত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখা হবে বলে জানান তারা।

বিকেল সোয়া ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামিউল এহসান ও মোহাইমিনুল বাশার এসব কথা জানান।

মোহাইমিনুল বাশার বলেন, “আমরা আমাদের আন্দোলনের ভাষা পরিবর্তন করেছি। উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ক্যাম্পাস ত্যাগ না করা পর্যন্ত প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সড়ক আলপনার মাধ্যমে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

উল্লেখ্য, ১৩ জানুয়ারি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। ১৬ জানুয়ারি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ তার কার্যালয় থেকে বের হয়ে ডিনদের এক সভায় যাওয়ার সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে পড়লে তার সঙ্গে থাকা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে আশ্রয় নেন। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ওই ভবনের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে স্লোগান দিতে থাকেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ উপাচার্যকে মুক্ত করতে ভবনের ভেতরে ঢুকতে চাইলে আন্দোলনকারীরা বাধা দেন। এ সময় একপর্যায়ে পুলিশ রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে উপাচার্যকে মুক্ত করে তার বাসভবনে নিয়ে যায়। পরে এই আন্দোলন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়।

১৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ ও পুলিশের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সাত দিন পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙfন অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে তিনি পানি খাইয়ে তাদের অনশন ভাঙান।

XS
SM
MD
LG