অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গঠন আইনের গেজেট প্রকাশ–আইনের সমালোচনা বিএনপি মহাসচিবের


বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন লোগো

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গঠনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্য নির্বাচন কমিশনার (ইসি) নিয়োগে তিনটি যোগ্যতা ও ছয়টি অযোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করে আইনের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

“প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২” শনিবার (২৯ জানুয়ারি) গেজেট আকারে প্রকাশ করে জাতীয় সংসদ।

আইন অনুযায়ী সিইসি ও ইসি হওয়ার জন্য অবশ্যই তিনটি যোগ্যতা থাকতে হবে। সেগুলো হলো-তাদের অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে; বয়স ন্যূনতম ৫০ বছর বছর হতে হবে এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধা সরকারি বা বেসরকারি পদে অন্যূন ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

কোনো আদালত কর্তৃক কোনো ব্যক্তিকে “উন্মাদ” ঘোষণা করা হলে; “দেউলিয়া” ঘোষণার পর কারাগার থেকে মুক্তি পাননি; বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করে অন্য কোনো দেশে নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে; নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে; আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হলে এবং কোনো আইন দ্বারা বা তার অধীনে এই ধরনের পদের জন্য অযোগ্য ঘোষিত হলে তিনি সিইসি বা ইসি হওয়ার জন্য “অযোগ্য” বিবেচিত হবেন। এ ছাড়া একজন ব্যক্তি একবার সিইসি পদে অধিষ্ঠিত হলে তিনি ইসি পদের জন্য যোগ্য হবেন না। কিন্তু কোনো ব্যক্তি ইসি পদে অধিষ্ঠিত থাকলে তাকে সিইসি নিয়োগের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে।

আইন অনুযায়ী সিইসি ও ইসির শূন্য পদের বিপরীতে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম সুপারিশের জন্য রাষ্ট্রপতি ছয় সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করবেন।

কমিটির সভাপতি হবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক। অন্য পাঁচ সদস্য হবেন প্রধান বিচারপতির মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত একজন নারীসহ দুজন বিশিষ্ট ব্যক্তি।

কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে সিইসি ও অন্য ইসি পদে নাম সুপারিশ করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে নাম আহ্বান করতে পারবেন।

প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে দুটি করে নাম সুপারিশ করবে।

সার্চ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জানুয়ারি সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদের অধীনে “প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২” বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়। এরপর ২৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি বিলটিতে সম্মতি দেন।

সিইসি কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হচ্ছে।

এ সংক্রান্ত আইন না থাকায় অতীতে রাষ্ট্রপতি সিইসি ও অন্য ইসি নিয়োগ দিতেন।

নির্বাচন কমিশন গঠন আইন বাকশালের মতোই–মির্জা ফখরুল

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন সংক্রান্ত সদ্য প্রণীত আইনটি বাকশাল আইনের মতো বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ ১৯৭৫ সালে যা সফলভাবে করতে পারেনি তা করতে গত ১৪ বছরে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়েছে। এখন বহুদলীয় গণতন্ত্রের আবরণ রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে বহুদলীয় গণতন্ত্র নেই।

সংসদে পাস হওয়া নতুন আইনটি নিয়ে রবিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে ভার্চ্যুয়াল এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বিএনপির জাতীয় কমিটির উদ্যোগে “২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫: বাকশাল” শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।

ফখরুল ইসলাম বলেন, “ক্ষমতাসীন দল গত দুটি নির্বাচনকেও ‘আড়ালে’ সাজিয়ে জনগণকে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। তারা এখন সেই বাকশালের মতো আইন করেছে। বাকশাল আইন ১১ মিনিটে তৈরি করা হয়েছিল এবং এবার তারা সংসদে (ইসি) সাত দিনের মধ্যে একটি আইন পাস করেছে।

ফখরুল ইসলাম বলেন, “বাকশাল এখন একটি গালাগালি শব্দে পরিণত হয়েছে। কারণ এর মাধ্যমে ১৯৭৫ সালে দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি এবং মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন ধ্বংস করা হয়েছিল।”

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ এখন সবকিছুকে রাজনীতিকরণ করে জনগণের টাকা লুটপাটের সুযোগ তৈরি করেছে। সব রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডকে নৃশংসভাবে দমন করা হচ্ছে এবং গণতন্ত্রপন্থী মানুষ ও মুক্তচিন্তাকারীদের হত্যা ও গুম করার মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে।”

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন নিপীড়নমূলক আইন করে সরকার জনগণের কণ্ঠকে দমন করছে বলেও অভিযোগ করেন এই বিএনপি নেতা।

সরকার বাকশাল পুনরুদ্ধারে নানা পরিকল্পনা করছে উল্লেখ করে তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

XS
SM
MD
LG