অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

২০১৭ সালের পর সবচেয়ে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দাবি উত্তর কোরিয়ার


৩১শে জানুয়ারি উত্তর কোরিয়ার কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে হোয়াসং-১২ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের কোলাজ। (ছবি- কেসিএনএ/ কেএনএস/ এএফপি)

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম রবিবার (৩০ জানুয়ারি) একটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের খবর প্রকাশ করে বলেছে, গত চার বছরে পিয়ংইয়ং থেকে উৎক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে দূরপাল্লার।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানায়, রবিবার দেশটির উত্তর–পূর্ব অঞ্চল থেকে উৎক্ষেপিত হয় এই হোয়াসং-১২ ক্ষেপণাস্ত্রটি। এটি যথার্থভাবে কাজ করছে কি না নিশ্চিত হতে এ পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে খবরে প্রকাশ করা হয়।

কেসিএনএ ক্ষেপণাস্ত্রটির কিছু ছবিও প্রকাশ করে। এতে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণের মুহূর্ত এবং মিশাইলের মাথায় লাগানো ক্যামেরায় অবতরণের দৃশ্যও ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি খাঁড়াভাবে সর্বোচ্চ ২ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় উঠেছিলে এবং উড্ডয়নের স্থান থেকে ৮০০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে অবতরণ করে। প্রতিবেশি দেশগুলোর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে উচ্চ গতিপথ ব্যবহার করা হয়েছে বলে সোমবার (৩১ জানুয়ারি) জানায় কেসিএনএ।

ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের ওপর দিয়ে উৎক্ষেপিত হওয়ায় জাপানের নেতারা এর কড়া সমালোচনা করেছেন।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে হোয়াসং-১২ ক্ষেপণাস্ত্রটি সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাড়ি দিতে পারে।

২০১৭ সালের পর এই প্রথম উত্তর কোরিয়া এই পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিবাদ চলাকালে দেশটি দুটি আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়।

সোমবার কেসিএনের সংবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো কটুবাক্য ব্যবহার করেনি সংবাদ মাধ্যমটি। যদিও ২০১৭ সালে বড় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময় হরহামেশা কেসিএনএ যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কটূক্তি এবং বাগাড়ম্বর প্রদর্শন করত।

এমনকি রবিবারের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাটির খবর দেশটির শাসক দলের পত্রিকা রোডোং সিনমানের প্রথম পাতায়ও প্রকাশিত হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া তাদের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টিকে অন্য দেশের মতো অস্ত্র উৎপাদনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উত্তর কোরিয়ার যেকোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এই নিষেধাজ্ঞা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ করতে পারেনি এবং দেশটি চলতি বছর জানুয়ারি মাসে ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড এক বিবৃতিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা জানিয়েছে এবং উত্তর কোরিয়াকে আঞ্চলিক অস্থিরতা বৃদ্ধি করে এমন কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া তার দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা থেকে স্বেচ্ছায় বিরত থাকার স্থগিতাদেশ লংঘনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

জাপানের মন্ত্রিপরিষদের প্রধান সচিব হিরোজকু মাতসুনো এই পরীক্ষার কড়া সমালোচনা করেছেন।

উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য পারমাণবিক আলোচনার বিরতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি। এ ছাড়াও অস্ত্র পরীক্ষার অন্য কারণের মধ্যে রয়েছে বর্তমান নেতা কিম জং উনের জনপ্রিয়তা বাড়ানো, নতুন অস্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং প্রতিরক্ষা শক্তির মহড়া প্রদর্শন।

XS
SM
MD
LG