অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার মহড়ার পর ব্লিংকেন- লাভরভ আলোচনার জন্য প্রস্তুত


ইউক্রেনের খারকিভে ট্যাঙ্ক মেরামত প্লান্টে তুষারাবৃত পুরনো টি-৬৪ ট্যাঙ্কের সারি। জানুয়ারি ৩১, ২০২২। (ছবি- এপি)

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা মুখোমুখি হওয়ার এক দিন পরেই দেশ দুটির শীর্ষ কূটনীতিকেরা মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) ফোনে আলাপ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। রাশিয়া প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেনে বড় ধরনের আক্রমণের অভিযোগ প্রত্যাখান করার পর দেশ দুটির প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসেন।

সংকট মোকাবিলায় মঙ্গলবারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনার জন্য ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কিয়েভ সফরও অন্তর্ভুক্ত।ব্রিটেন যুক্তরাষ্ট্ ও অন্য পশ্চিমা মিত্রদের মতো ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে এবং জনসন বাল্টিক দেশগুলোতে ব্রিটিশ সেনা দ্বিগুণ করার কথা বিবেচনা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী (সেক্রেটারি অফ স্টেট) অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ২১ জানুয়ারি জেনেভায় মুখোমুখি আলোচনা করেছেন এবং তারপর থেকে দুই পক্ষ তাদের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করার জন্য লিখিত প্রতিক্রিয়া বিনিময় করেছে। ইউক্রেনে আগ্রাসন চালালে রাশিয়ার ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে নিজ অধিভুক্ত করে। রাশিয়া বলেছে ইউক্রেনে আবার আক্রমণ করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের জানান, ইউক্রেনের সীমান্তে রাশিয়া এক লাখেরও বেশি সেনার মধ্যে রয়েছে কমব্যাট বাহিনী এবং সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত বিশেষ বাহিনী। তিনি বলেন, প্রায় ৫ হাজার রাশিয়ান সেনা ছাড়াও এর মধ্যে “স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, বিশেষ বাহিনী ও বিমানবিধ্বংসী ব্যাটারি” রয়েছে। এসব মস্কো তার ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং প্রতিবেশী বেলারুশে স্থানান্তরিত করেছে। তিনি যোগ করেন, ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে মস্কো এই সেনা সংখ্যা ৩০ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, রাশিয়ার আগ্রাসন ইউক্রেন, ইউরোপ এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

টমাস-গ্রিনফিল্ডের বক্তব্যের পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউস থেকে একটি বিবৃতি দেন। সেই বিকৃতিতে বলা হয়, “রাশিয়া যদি আলোচনার মাধ্যমে আমাদের নিজ নিজ নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলায় আন্তরিক হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এবং আমাদের মিত্র ও অংশীদারেরা ভালো বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত থাকবে।” “এর পরিবর্তে রাশিয়া যদি কূটনীতির পথ পরিত্যাগ করে ইউক্রেনকে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে রাশিয়া এর দায় বহন করবে এবং ত্বরিৎ ও গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হবে।”

এদিকে নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া সোমবারের মুক্ত আলোচনা অবরুদ্ধ করার জন্য একটি পদ্ধতিগত ভোট ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় সমর্থন পেতে ব্যর্থ হন।তিনি বলেন, রাশিয়া বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে “ভীত” নয়, তবে কেন আলোচনার প্রয়োজন তা বুঝতে পারছে না। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও্র পশ্চিমা সহকর্মীরা এমন আচরণ করছে, যেন একটি আক্রমণ ইতিমধ্যেই সংঘটিত হয়েছে। এ ছাড়াও তারা পরিকল্পনার পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। সমস্ত রাশিয়ান কর্মকর্তারা আক্রমণের পরিকল্পনা “স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান” করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ এর অন্যথা দাবি করলে তারা “আপনাদের বিভ্রান্ত করছে”।

[এই প্রতিবেদনের জন্য ভয়েস অফ আমেরিকার পেন্টাগন সংবাদদাতা কার্লা বাব ও ভয়েস অফ আমেরিকার ক্রিস হ্যানাস সাহায্য করেছেন। এ ছাড়া এই প্রতিবেদনের জন্য কিছু তথ্য বার্তা সংস্থা রয়টার্স থেকে নেওয়া হয়েছে।]

XS
SM
MD
LG