অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বেড়াজালের ভেতর “স্বাধীন” বেইজিং অলিম্পিকের সংবাদকর্মীরা

ঝাংজিয়াজি জাতীয় স্কি জাম্পিং সেন্টার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ঝাংজিয়াকো, চীন
ঝাংজিয়াজি জাতীয় স্কি জাম্পিং সেন্টার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ঝাংজিয়াকো, চীন

বেইজিং অলিম্পিকে আসা সংবাদকর্মীরা একটা কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন। তারা যে শুধু মহামারী নিয়ন্ত্রণে আরোপ করা কড়া বিধি-নিষেধের সম্মুখীন হবেন তাই নয়, বরং একই সাথে গণমাধ্যমের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বৈরি দেশগুলোর একটিতে কাজ করবেন তারা।

গণমাধ্যমের উপর চীনের নজরদারি ও দুর্ব্যবহরের বিষয়ে শঙ্কিত হয়ে, শীতকালীন অলিম্পিকে যাওয়া অনেক সংবাদকর্মীই ভিওএ-কে বলেন যে তারা “বার্নার” ডিভাইস ব্যবহার করছেন। এ ধরণের ফোন ও ল্যাপটপ থেকে সকল ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলা হয় যাতে, তাদের ডিজিটাল গোপনীয়তা রক্ষা করা যায়।

শীতকালীন অলিম্পিককে সামনে রেখে, দ্য কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) সতর্ক করেছে যে সংবাদকর্মীদের ফোন ও ল্যাপটপে ক্ষতিকর সফটওয়ার প্রবেশ করিয়ে দিতে পারে চীন। সিপিজে’র একটি উপদেশে বলা হয়, “ধরে নিবেন যে আপনি অনলাইনে যা কিছুই করবেন তার সবই পর্যবেক্ষণ করা হবে।”

রিপোর্টার্স উইদাইট বর্ডারস এর ২০২১ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম সূচকে, ১৮০টি দেশের মধ্যে চীনের অবস্থান ১৭৭ তম। এটি উত্তর কোরিয়া থেকে মাত্র দুইটি অবস্থান উপরে। প্রতিষ্ঠানটি বলে, দেশটি তাদের তথাকথিত “গ্রেট ফায়ারওয়াল” বজায় রাখতে সেন্সরের একটি বিশাল সম্ভারই নিযুক্ত করেনি, একই সাথে তারা সংবাদকর্মীদের জেলে আটক রাখার ক্ষেত্রেও শীর্ষে। সেখানে ১২৮ জন সংবাদকর্মীকে আটক রাখা হয়েছে।

এই সপ্তাহের প্রথম দিকে ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব অফ চায়না একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে সতর্ক করেছে যে, দেশটিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা “অস্বাভাবিক গতিতে” হ্রাস পেয়ে চলেছে। সেখানে বলা হয় যে, চীন-ভিত্তিক বিদেশী সংবাদকর্মীরা শারীরিক নির্যাতন, সাইবার হ্যাকিং, ভিসা প্রত্যাখ্যান, এবং আইনী পদক্ষেপের ক্রমবর্ধমান হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন।

বেইজিং অলিম্পিকে আগত সংবাদকর্মীরা চীনের খুব বেশি কিছু প্রত্যক্ষ করতে পারবেন না। তাদের একটি আবদ্ধ অংশে রাখা হবে। অনুষ্ঠানের এক স্থান থেকে আরেক স্থানে শুধুমাত্র সরকারী বাসে করে যাতায়াত করবেন তারা। এটি কভিড সংক্রমণকে শুন্য পর্যায়ে নামিয়ে আনার চীনের কৌশলের একটি অংশ। অত্যন্ত সংক্রামক ওমিক্রন প্রকরণের আবির্ভাব সত্ত্বেও, এই কৌশলের মাধ্যমে তারা কোভিড-১৯ পুরোপুরি নির্মূল করার চেষ্টা করছে।

দ্যা ক্যানেডিয়ান প্রেস সংবাদ সংস্থার একজন ক্রীড়া প্রতিবেদক ডনা স্পেন্সার বলেন, “বেইজিং-এর মানুষজন এই খেলার আসরটি নিয়ে কি ভাবছেন তা বোঝা খুবই কষ্টসাধ্য, কারণ আমরা শুধুমাত্র কর্মী বা স্বেচ্ছাসেবকদের সাথেই কথা বলতে পারি। এই আবদ্ধ বেড়াজালের বাইরে কি হচ্ছে তা নিয়ে সংবাদ করার কোন সুযোগ নেই।”

তিনি বলেন, “এটা খুবই অস্বাভাবিক দুই বৈপরীত্যের সহাবস্থান। আমরা স্বাধীনভাবে সংবাদ করতে পারি – এই বেড়াজালের ভেতর আবদ্ধ থেকে।”

This item is part of
XS
SM
MD
LG