অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

প্রথম ডোজ টিকার ১০ কোটির মাইলফলকে বাংলাদেশ–করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত কমেছে


বাংলাদেশের করোনাভাইরাস গণ টিকাদান কর্মসূচীর সময়ে একজনকে টিকা দিচ্ছেন একজন স্বাস্থ্যকর্মী- ফাইল ফটো- এএফপি

বাংলাদেশে টিকাপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা রবিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ১০ কোটির মাইলফলক ছাড়াবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

করোনা পরিস্থিতির সাম্প্রতিক চিত্র তুলে ধরা হয় রবিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভার্চ্যুয়াল বুলেটিনে। সেখানে করোনার টিকার তথ্য উপস্থাপন করেন অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে করোনার গণটিকাদান শুরু হয়েছিল গত বছর ৭ ফেব্রুয়ারি।

বুলেটিনে জানানো হয়, দেশে প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছেন ৯ কোটি ৮৯ লাখের বেশি মানুষ। রবিবার এ সংখ্যা ১০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। আর এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ টিকা পেয়েছেন ৬ কোটি ৪৬ লাখের বেশি মানুষ। প্রান্তিক, শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের টিকাকেন্দ্রে যাওয়া ও টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। এর মধ্যে ১ কোটি ৪১ লাখ শিক্ষার্থী প্রথম ডোজের টিকা পেয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ২৬ লাখ।

সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে নাজমুল ইসলাম বলেন, “দুই দিন ধরে সংক্রমণে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে সামগ্রিক করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী, তা এখনো বলার সময় হয়নি। শনাক্তের বিপরীতে এখনো দৈনিক মৃত্যু বেশি হচ্ছে।”

করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত কমেছে

রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময় শনাক্ত হয়েছে আরও ৮ হাজার ৩৪৫ জন। এ পর্যন্ত দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৫৮৯ জনে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৮ হাজার ৮২১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা ১৮ লাখ ৬১ হাজার ৫৩২ জনে পৌঁছেছে। এ সময় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৫০ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মোট মৃত্যুর হার এক দশমিক ৫৪ শতাংশ।

এদিকে ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন আরও ৮ হাজার ১৫৯ জন। এ নিয়ে দেশে মোট সুস্থ ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ দুই হাজার ৫৫০ জনে। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ৯ শতাংশ।

ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা ১০৬ জন

এদিকে বাংলাদেশে বাড়ছে করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তের সংখ্যা। রবিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা (জিআইএসএআইডি) আরও ৩৭ জনের শরীরে এই ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতির কথা জানিয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে এই ভ্যারিয়েন্টে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০৬ জনে পৌঁছেছে।

সর্বশেষ কেসগুলো প্রাভা হেলথের ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেগুলোকে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা কাউন্সিলের (বিসিএসআইআর) জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবে জমা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর সর্বপ্রথম বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের দুই সদস্যের দেহে এই ভ্যারিয়েন্টের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সে সময় তারা করোনা আক্রান্ত হওয়ায় জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত আইসিসি নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটের বাছাইপর্ব না খেলেই ফিরে আসেন।

করোনাভাইরাস মহামারির এই ধরনটিকে সবচেয়ে বেশি সংক্রামক বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গত ২১ জানুয়ারি জানান, বাংলাদেশে ওমিক্রনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের ফলে ধীরে ধীরে এটি ডেলটার জায়গা নিয়েছে।

অধিদপ্তরের মুখপাত্র ডা. মো. নাজমুল ইসলাম বলেছেন, ওমিক্রন কমিউনিটি পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি আক্রান্তের লক্ষণগুলোর সঙ্গে মৌসুমী ফ্লুর মিল রয়েছে।

XS
SM
MD
LG