অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বালুচিস্তানে জঙ্গি সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী


পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে জঙ্গিদের সঙ্গে বন্দুকজুদ্ধে নিহত এক সেনা কর্মকর্তার মরদেহ বহন করছেন সেনা সদস্যরা। ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২২। (ছবি- আব্দুল মজিদ/ এপি)
পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে জঙ্গিদের সঙ্গে বন্দুকজুদ্ধে নিহত এক সেনা কর্মকর্তার মরদেহ বহন করছেন সেনা সদস্যরা। ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২২। (ছবি- আব্দুল মজিদ/ এপি)

রক্তক্ষয়ী এক হামলায় ২০ জনের নিহত হওয়ার ঘটনার ৭২ ঘন্টা পর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাত থেকে দক্ষিণ বালুচিস্তান প্রদেশের দুটি সেনা ঘাঁটি মুক্ত করেছে বলে শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ।

সহিংসতাপ্রবণ প্রদেশটির প্রত্যন্ত নুশকি ও পাঞ্জগুর জেলার দুটি সেনা ঘাঁটিতে বুধবার রাতের হামলায় সৃষ্ট অচলাবস্থায় সেনাবাহিনীর কমপক্ষে নয়জন সদস্য নিহত হন। তাদের মধ্যে দুজন কর্মকর্তা এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।

সামরিক বাহিনীর গণযোগাযোগ শাখা আন্তঃবাহিনী গণসংযোগ দপ্তরের (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, "নিরাপত্তা বাহিনী আজ (শনিবার) নির্মূল অভিযান সম্পন্ন করেছে"। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয় যে, দুটি হামলাই সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।

বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) নামে নিষিদ্ধ একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন দুটি পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দায় স্বীকার করেছে।

নুশকিতে রাতভর চলা এই অভিযানে ভারী অস্ত্রে সুসজ্জিত নয়জন সন্ত্রাসীসহ নিরাপত্তা বাহিনীর চারজন নিহত হন।

পাঞ্জগুরে চারজন হামলাকারী পালিয়ে সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি একটি ভবনে আশ্রয় নেয়। সে কারণে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানটি শনিবার পর্যন্ত চলে বলে জানায় আইএসপিআর।

“আত্মসমর্পণ না করায় ঘিরে রাখা সকল জঙ্গিদের হত্যা করা হয়েছে”, একটি বিবৃতিতে বলা হয়।

সহিংসতা শুরুর পর কর্তৃপক্ষ নুস্কি এবং পাঞ্জগুরে কারফিউ জারি এবং সেখানকার সকল বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করেছে। এই দুই এলাকার অধিবাসীরাও কয়েকদিন ধরে আটকা পড়ে আছেন।

অস্ত্রে সুসজ্জিত হামলাকারী

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, হামলাকারীদের কাছে রকেট লঞ্চার, গ্রেনেডসহ ভারী এবং আধুনিক অস্ত্র ছিল। তারা এসব ব্যবহার করে সামরিক ঘাঁটিতে ঢুকে জিম্মি করতে চেয়েছিল। হামলায় একাধিক সামরিক সেনা নিহত হয়েছে, বিএলএ সংগঠনের এই দাবি অস্বীকার করে সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেছেন, “এটা একেবারেই বাজে কথা”।

গ্যাস ও বিভিন্ন খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ বালুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের সহিংসতা অব্যাহত থাকলেও, সম্প্রতি নাটকীয়ভাবে হামলার পরিমাণ বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহে জঙ্গিরা প্রদেশের কেচ জেলায় সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ১০ সেনাকে হত্যা করেছিল।

এসব বালুচ বিদ্রোহীদের মতে তারা দরিদ্র্য এই অঞ্চলের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে। তাদের অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার চীনের সাহায্যে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে স্থানীয় জনগণকে বঞ্চিত করেছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারত বিদ্রোহীদের আর্থিক এবং অন্য সহায়তা দিচ্ছে। বালুচিস্তানে হামলার জন্যে এই জঙ্গিরা ইরান ও আফগানিস্তানে ঘাঁটি তৈরি করেছে।

চীন সফরে ইমরান খান

বালুচিস্তানের হামলার কয়েক ঘন্টা পর শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চীন সফরে যান ইমরান খান। এই সফরে দুই দেশের গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসবেন দুই দেশের নেতারা।

জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতাদের মতে ইমরান খানের রাষ্ট্রীয় সফরকে উদ্দেশ্য করেই এই হামলা করেছে জঙ্গিরা। তারা চীনকে এই বার্তা দিতে চেয়েছে যে, পাকিস্তান বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্যে উপযুক্ত নয়।

চীন বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে বালুচিস্তানসহ পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে কোটি কোটি টাকার অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে।

XS
SM
MD
LG