অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেনের অস্ট্রেলিয়া ও ফিজি সফরে চীনের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে 


ফাইল ছবি,বিদেশ সফরের শুরুতে অ্যান্ড্রুস বিমানঘাঁটিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন, ১৮ই জানুয়ারী, ২০২২, ছবি/এপি

পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, কোয়াড মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন সোমবার অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন। এই বৈঠকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ইন্দো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে "আগ্রাসন ও বলপূর্বক নিয়ন্ত্রণ" ঠেকানো নিয়ে আলোচনা হবে।

কোয়াড হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা সংলাপ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন-এর ৯ থেকে ১২ই ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া সফর হবে গত সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্যকে নিয়ে গড়া বর্ধিত নিরাপত্তা চুক্তি 'আয়ুকুস'(AUKUS ) অংশীদারিত্ব চুক্তি সম্পাদনের পর সে দেশে তার প্রথম সফর। অস্ট্রেলিয়া জি-সেভেন অন্তর্ভুক্ত দেশ নয়, তবু এই চুক্তিতে দেশটির জন্য পরমাণু পরিচালিত সাবমেরিন নির্মাণের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যে পদক্ষেপ ইন্দো প্রশান্তমহাসাগরীও এলাকায় চীনের সামরিক আগ্রাসন বা সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে বর্ধিত পদক্ষেপের অংশস্বরূপ।

পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, "পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন নানাবিধ দ্বিপাক্ষিক ও বৈশ্বিক অগ্রাধিকার বিষয় আলোচনার জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মারিস পেইন, জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, হায়াশি ইয়োসীমাসা, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্করের সঙ্গে মিলিত হবেন"।

পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসগরীয় বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী, ড্যানিয়েল ক্রিটেনব্রিঙ্ক শুক্রবার এক ফোনালাপে ভয়েস অব আমেরিকাকে জানান, মেলবোর্ন অনুষ্ঠিতব্য চতুর্থ কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে "চীনের হুমকি বা চ্যালেঞ্জসমূহ"।

চীনের কর্মকর্তারা বেইজিংয়ে কোয়াড ও 'আয়ুকুস'-এর ব্যাপারে উদবেগ ব্যক্ত করেছেন। চীনের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র, জাও লিজিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন যখন গত সেপ্টেম্বর মাসে কোয়াড শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক কোনো ফ্রেমওয়ার্কে "তৃতীয় কোনো দেশকে লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়" । মুখপাত্র জাও 'আয়ুকুস চুক্তিকে "অতি দায়িত্বহীন" চুক্তি বলে অভিহিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকের সপ্তাহব্যাপী সফরে ফিজি ও হাওয়াইয়ের হনলুলুতে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ফিজিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন জলবায়ু সঙ্কট এবং "প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় গণতন্ত্র, আঞ্চলিক সংহতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্মিলিত প্রতিশ্রুতি" এগিয়ে নিতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলির নেতাদের সাথে আলোচনায় মিলিত হবেন। ১৯৮৫ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের কোন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটাই হবে ফিজিতে প্রথম সফর।

১২ই ফেরুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেনের সাথে হনলুলুতে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হায়াশি এবং কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চুং ইউয়ি-ইয়ংয়ের বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার তরফে পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।

রাশিয়া ইউক্রেন সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রাখার পটভূমিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলি সফর করছেন।

XS
SM
MD
LG