অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক এবং অন্যদের মুক্তি দিয়েছে তালিবান


তালিবান যোদ্ধারা আফগানিস্তানের কাবুলের কাছে হিমায়িত কারঘা লেকে হাঁটছে।১১ ফেব্রুয়ারী ২০২২।

আফগানিস্তানের তালিবান কর্তৃপক্ষ শুক্রবার জানিয়েছে, “পরিচয় যাচাই” করার পর দুই বিদেশি সাংবাদিক এবং তাদের স্থানীয় সহকর্মীদের আটকাবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) রাজধানী কাবুলে সাংবাদিকদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করার কয়েক ঘণ্টা পর এই ঘোষণা এসেছে। তারা জানায়, এই সাংবাদিকেরা ত্রাণ সংস্থার জন্য কাজ করছে এবং তাদের মুক্তির জন্য প্রচেষ্টা চলছে।

শুক্রবার গভীর রাতে শরণার্থী সংস্থাটি টুইট করেছে, “ইউএনএইচসিআর-এর সঙ্গে দায়িত্বরত দুই সাংবাদিক এবং তাদের সঙ্গে কাজ করা আফগান নাগরিকদের কাবুলে মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে পেরে স্বস্তি বোধ করছি।"

“যারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছেন তাদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা আফগানিস্তানের জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”, টুইটে আরও বলা হয়।

সাংবাদিকদের আটকের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সমালোচকেরা এটিকে দেশের ইসলামপন্থী শাসকদের মাধ্যমে মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ হিসেবেও নিন্দা জানায়।

তালিবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন যে, আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্য কাজ করছেন তার উপযুক্ত প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিদেশিদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।

“তারা নিরাপদ ছিলেন এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল। তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের মুক্ত করা হয়েছে”, জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ স্থানীয় ভাষায় টুইটারে লিখেছেন। তিনি আর কোনো তথ্য দেননি।

আফগানিস্তানের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ টুইটারে লেখেন, "কোনো গণমাধ্যম না থাকায়, নাগরিকদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না আসায় এবং শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের কারণে দুর্নীতি, অপরাধ এবং নৃশংসতার খবর প্রকাশিত হয় না।” সালেহ লিখেছেন, "উদাহরণস্বরূপ, পশ্চিমা দেশের নয়জন নাগরিককে অপহরণ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে বিবিসির অ্যান্ড্রু নর্থ ও গ্যান্ডোমাক রেস্টুরেন্টের মালিক পিটার জুভেনালও রয়েছেন।"

বাগদাদ ও বৈরুতভিত্তিক বিবিসির প্রতিবেদক অ্যান্ড্রু নর্থ আফগানিস্তানে একজন স্বাধীন সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন এবং তার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট অনুসারে তালিবান নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

নর্থের স্ত্রী এবং সাংবাদিক নাটালিয়া আন্তেলাভা তার স্বামীর মুক্তির জন্য টুইটারে সাহায্য চান।

দ্য কমিটি টু প্রটেক্ট জারনালিস্ট (সিপিজে) একটি বিবৃতিতে আটকের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি তালিবান শাসনের অধীনে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সামগ্রিক পতন এবং সাংবাদিকদের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের একটি দুঃখজনক উদহারণ।

সিপিজে কাবুলে জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে যে, মঙ্গলবার নর্থকে আটক করা হয়।

অন্যদিকে জুভেনাল একজন ব্রিটিশ-জার্মান দ্বৈত নাগরিক, তার পরিবার জানায়। তারা বলেছে যে, তিনি ফ্রিল্যান্স ক্যামেরাম্যান হিসেবে কয়েক দশক ধরে আফগানিস্তানে ভ্রমণ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে "আফগানিস্তানের খনি শিল্পে বিনিয়োগের পাশাপাশি পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা করতে" সেখানে অবস্থান করছিলেন।

বিবৃতিতে বলা হয় “আমরা অবিলম্বে অনুরোধ করছি আফগান কর্তৃপক্ষ যেন পিটারকে মুক্তি দেয়। তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন এবং ওষুধের প্রয়োজন। আফগান কারাগার ব্যবস্থায় কোভিড সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিও রয়েছে।” তারা জাতিসংঘ, আইসিআরসি এবং রেড ক্রিসেন্টকে সাহায্যের জন্য আহ্বান জানান।

গত অগাস্টে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করার পর থেকে তালিবান ভিন্নমতের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। কয়েক ডজন স্থানীয় সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজন শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিদেশি সাংবাদিককে আটক করা হয়নি।

শুক্রবার তালেবান কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকজন নারী অধিকারকর্মীকেও মুক্তি দিয়েছে। যাদেরকে কিছুদিন আগে সরকার বিরোধী এবং নারী অধিকারের দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

জাতিসংঘ ও অধিকার গোষ্ঠীগুলো তদন্ত এবং নারী বন্দীদের শনাক্ত করার জন্য ইসলামপন্থী গোষ্ঠীকে চাপ দিয়েছিল।

“আমি আফগানিস্তানে নিখোঁজ নারী অধিকার কর্মীদের সুস্থতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হচ্ছি”, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বৃহস্পতিবার টুইট করেছেন। বেশ কয়েকজন “নিখোঁজ” হয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে কারও কারও কোনো খোঁজ নেই, তিনি আরও লেখেন।

"আমি তালিবানকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জোরালোভাবে অনুরোধ করছি যাতে তারা বাড়ি ফিরে যেতে পারে", তিনি বলেন।

XS
SM
MD
LG