অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইউক্রেন সংকট নিয়ে আলোচনায় বাইডেন পুতিনকে “কঠিন পরিণামের” বিষয়ে সতর্ক করেছেন


প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে সতর্ক করে বলেছেন যে, রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করলে "তাৎক্ষণিক এবং গুরুতর" পরিণতি হবে।

রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালাতে পারে এমন উদ্বেগের মধ্যে বাইডেন এবং পুতিন চলমান সংকট নিয়ে আলোচনা করেন। রাশিয়া সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন সীমান্তে ১ লাখেরও বেশি সেনা মোতায়েন করেছে।

ফোনালাপ শেষে, ক্রেমলিনের শীর্ষ পররাষ্ট্র নীতি উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বলেছেন, বাইডেন রাশিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রশমনে জানুয়ারিতে প্রস্তাবিত ধারণাগুলোই পুনরাবৃত্তি করেছেন।

"কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এবং বলা হয়েছিল, এই ধারনাগুলো রাশিয়ার মূল উদ্যোগের কেন্দ্রীয়, মূল উপাদানগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়," ক্রেমলিনের এই কর্মকর্তা বলেন। তিনি আরও বলেন রাশিয়া শিগগিরই কিছু পাল্টা প্রস্তাব উপস্থাপন করবে।

উশাকভ বলেছিলেন যে, কলটি "ভারসাম্যপূর্ণ এবং কাজের" ছিল এবং দুই নেতা "যেকোনো স্তরে যোগাযোগ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন।"

তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতি তথা যেকোনো সময় হামলা হতে পারে এই বিষয়ে বলেন "উন্মত্ততা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।"

এর আগে ওয়াশিংটন দাবি করেছে তারা একটি গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছেন যে, রাশিয়া বুধবার প্রথম প্রহরে হামলা করতে পারে।

হোয়াইট হাউস থেকে বলা হয়েছে বাইডেন মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডের প্রেসিডেন্টের রিট্রিট থেকে স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪ মিনিট থেকে ১২টা ৬ মিনিট পর্যন্ত ফোনে কথা বলেন।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "প্রেসিডেন্ট বাইডেন স্পষ্ট করে জানান যে, রাশিয়া যদি ইউক্রেনে আরও আক্রমণ চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র মিত্র ও অংশীদার রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে একত্রে নিষ্পত্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে এবং রাশিয়াকে ‘তাৎক্ষণিক এবং চরম’ মুল্য দিতে হবে”।

বিবৃতিতে যোগ করা হয়েছে, "প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রেসিডেন্ট পুতিনকে স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং এর মিত্র রাষ্ট্রগুলোকে সঙ্গে নিয়ে কূটনীতিক সমাধানের বিষয়ে চেষ্টা চালিয়ে গেলেও, আমরা অন্য যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সমানভাবে প্রস্তুত।"

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ফোনালাপের পর সাংবাদিকদের বলেন, সংকটের "মৌলিক গতিশীলতায় কোনো পরিবর্তন" হয়নি। এই কর্মকর্তা বলেন যে, বাইডেন আবার কূটনৈতিক সমাধানের প্রস্তাব করেছেন এবং পুতিনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে সে ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত ছাড়াই কলটি শেষ হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভে তার দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে এবং তার বেশিরভাগ কর্মীকে সরিয়ে নিয়েছে। ইউক্রেনে পাসপোর্ট এবং ভিসা পরিষেবাসহ নিয়মিত কনস্যুলার পরিষেবাগুলো বন্ধ রয়েছে৷

অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডা তাদের দূতাবাসগুলো লভিভে স্থানান্তর করছে বলে ঘোষণা করেছে। এই শহরে ইউক্রেনের সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে।

পোল্যান্ড ইউক্রেনের আমেরিকান নাগরিকদের আগাম অনুমোদন ছাড়াই পোল্যান্ডে প্রবেশ করার অনুমতি দিচ্ছে। তাদেরকে শুধুমাত্র পাসপোর্ট এবং কোভিড টিকার সনদ উপস্থাপন করতে হবে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা শনিবার বলেছেন, মস্কো ইউক্রেনে তার কূটনৈতিক কর্মীদের “সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ” নিশ্চিত করতে চায়। কারণ রাশিয়া “কিয়েভ থেকে সম্ভাব্য উসকানির” আশঙ্কা করছে।

জাখারোভা অনুমিত পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। তিনি বলেন, ইউক্রেনের দূতাবাস এবং কনস্যুলেটগুলো মূল কার্য সম্পাদন অব্যাহত রেখেছে।

এ ছাড়াও শনিবার ব্রিটেন তার নাগরিকদের ইউক্রেন ছেড়ে যেতে বলেছে এবং জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসও তাদের নাগরিকদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ইউক্রেন ছেড়ে যেতে বলেছে।

রাশিয়ান কর্মকর্তারা ইউক্রেনে হামলা চালানোর পরিকল্পনা অস্বীকার করেছেন, তবে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়ার দাবি যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা নেটোতে সদস্য হওয়ার জন্য ইউক্রেনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করুক।

পশ্চিমা দেশগুলো সংকট কমাতে রাশিয়াকে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে এবং রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করলে দ্রুত এবং কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের অঙ্গীকার করেছে।

[ভয়েস অফ আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের সংবাদদাতা সিন্ডি সাইন, পেন্টাগনের কার্লা বাব ও জাতীয় নিরাপত্তা সংবাদদাতা জেফ সেলদিন এই প্রতিবেদনের জন্য ভূমিকা রেখেছেন। এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, এজেন্সি ফ্রান্স ও রয়টার্স নেওয়া হয়েছে]

XS
SM
MD
LG