বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে নিয়োগের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত নামের সঙ্গে প্রস্তাবকারীদের পরিচয়ও প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন।
সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান ও সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ আহ্বান জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে সুজন বলেছে, “গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে আমরা জেনেছি যে, নির্বাচন কমিশনে নিয়োগের লক্ষ্যে সুপারিশের জন্য রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে এ পর্যন্ত ৩২৯ জনের নাম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা পড়েছে। ইতিমধ্যে এসব নাম প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমরা অনুসন্ধান কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে গঠিত অনুসন্ধান কমিটির কাছে এসব নাম প্রকাশের অনুরোধ করেও আমরা সফল হইনি।”
“তবে আমরা নিশ্চিত নই প্রস্তাবকৃত নামের সঙ্গে প্রস্তাবকারীর নাম প্রকাশ করা হবে কি না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগ আইন ২০২২-এ অনুসন্ধান কমিটিকে তার কার্যপ্রণালীতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া আছে। স্বচ্ছতা তখনই নিশ্চিত হয়, যখন কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য গোপন না রাখা হয়। তাই পরিপূর্ণ স্বচ্ছতার খাতিরে কে কার এবং কোন রাজনৈতিক দল/সংগঠন কার নাম প্রস্তাব করেছে তা ব্যক্তি, দল ও পেশাজীবী সংগঠনের নামসহ প্রকাশ করার জন্য আমরা অনুসন্ধান কমিটিকে অনুরোধ করছি।”
সুজন আরও বলেছে, “আমরা শুনেছি যে কিছু রাজনৈতিক দল তাদের প্রস্তাবিত নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছে। রাজনৈতিক দল ও তাদের প্রস্তাবিত নাম কোনো গোপন বিষয় নয় এবং এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হাইকোর্টের একটি রায় প্রাসঙ্গিক। বেশ কয়েক বছর আগে রাজনৈতিক দলের আয়-ব্যয়ের অডিট করা হিসাব তথ্য অধিকার আইনের অধীনে দরখাস্ত করেও আমরা পাইনি। এসব তথ্যের মালিক রাজনৈতিক দল এবং তাদের সম্মতি ছাড়া এগুলো প্রকাশ করা যাবে না এই যুক্তিতে নির্বাচন কমিশন আমাদের দরখাস্ত খারিজ করে দেয়। তথ্য কমিশনে গিয়েও আমরা এ ব্যাপারে প্রতিকার পাইনি। এরপর আমরা আদালতের আশ্রয় নিলে, বাংলাদেশ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বদিউল আলম মজুমদার ও অন্যান্য বনাম বাংলাদেশ [ডিএলআর ৬৯ (২০১৭) ] মামলায় রায় দেন যে, তথ্য অধিকার আইনে সংজ্ঞায়িত ‘কর্তৃপক্ষের’ কাছে থাকা সকল তথ্য ‘পাবলিক ইনফরমেশন’ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা প্রকাশ করতে বাধ্য। এ ছাড়াও তথ্যের সঙ্গে সত্যের যোগসূত্রতা রয়েছে, তাই তথ্য জানার উদ্দেশ্য হলো সত্য উদ্ঘাটন করা। এমতাবস্থায় কোন ব্যক্তি, দল ও সংগঠন কার নাম প্রস্তাব করেছে, সে তথ্য ব্যক্তি, দল ও সংগঠনের নামসহ একটি ছকে প্রকাশ করার জন্য আমরা অনুসন্ধান কমিটিসহ সাচিবিক দায়িত্ব পালনকারী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
“পাশাপাশি, কেবল নাম প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চূড়ান্ত সুপারিশকৃতদের সম্পর্কে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যও আমরা অনুসন্ধান কমিটির প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”