অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানে বাস্তুচ্যূতদের জাতিসংঘের সহায়তা বৃদ্ধি


ফাইল ছবি, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মুসলমান শিবিরের কাছে শিশুরা খেলছে, ২৪শে জুন, ২০১৪, ছবি/ গেমুনু আমারাসিঙে/এপি

জাতিসংঘ ও অন্যান্য সাহায্যদাতা সংস্থাগুলো বাস্ত্যুচুত লোকজনদের ক্রমবর্ধমান সঙ্কটে সাড়া দিয়ে মিয়ানমারে মানবিক তৎপরতা বৃদ্ধি করছে।

মিয়ানমারে সামরিক জান্তা একবছর আগে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়ার পর বাস্ত্যুচুত লোকজনদের সংখ্যা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৮ লাখে দাঁড়িয়েছে।

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থাটি জানায় সমগ্র দেশজুড়ে লড়াই ও সশস্ত্র সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী সপ্তাহ এবং মাসগুলোতে সেই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

ইউএনএইচসিআর'এর মুখপাত্র ম্যাথিউ সল্টমার্শ বলেন, তার সংস্থা ও অন্যান্য সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সংখ্যায় বাস্ত্যুচুত জনগণকে সাহায্য করার লক্ষ্যে জরুরি সহায়তা বৃদ্ধি করতে যাচ্ছে। তিনি জানান বর্তমানে তারা এক সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে বসবাস করছেন এবং তাদের জরুরি মানবিক সহায়তার প্রয়োজন।

মুখপাত্র সল্টমার্শ বলেন, "নিরাপত্তাহীনতা , পথে প্রতিবন্ধকতা এবং প্রবেশাধিকারের অনুমোদন পাওয়ার মতো চ্যালেঞ্জ থাকায় মিয়ানমারের অনেক অঞ্চলে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এখনো সীমিত"।

জাতিসংঘ থেকে জানানো হয় অভূত্থানের পর থেকে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বৈরিতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশজুড়ে। জাতিসংঘ মানবিক সংস্থার প্রধান, মিশেল ব্যাশেলেট হুশিয়ার করে দিয়েছেন মিয়ানমার এখন গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি এবং সেখানকার সঙ্কট বৃদ্ধি পাওয়ায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি এখন তা হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সল্টমার্শ তাই সংস্থাগুলোর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার, দেশটিতে খাদ্য পৌঁছানো এবং মানবিক সহায়তা কর্মীদের অবাধে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার প্রতি জোর দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, সেই প্রবেশাধিকার কখনো থাকে, কখনো থাকেনা। উদাহরণস্বরূপ সংস্থাগুলো বিক্ষিপ্তভাবে রাখাইন রাজ্যে মাত্র ৬ লাখ রাষ্ট্রবিহীন মুসলমান রোহিঙ্গাদের কাছে পৌঁছাতে সমর্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন তাদের উপকারের জন্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো এখন তূলনামূলক ভাবে অনেক কম।

সল্টমার্শ বলেন, "জীবন সেখানে এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নাগরিকত্ব অর্জনের পথও এখনো অনিশ্চিত, এরা রাষ্ট্রবিহীন এক জনসংখ্যা। যেমনটি অবশ্যই আপনারা সবাই জানেন প্রায় ১০ লক্ষের মত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন, এবং সেখানে রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত ভয়াবহ ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন”।

সমগ্র মিয়ানমার জুড়ে ১০টি স্থানে ইউএনএইচসিআর-এর প্রায় ২০০ কর্মী এখন কর্মরত। মুখপাত্র সল্টমার্শ বলেন, বিভিন্ন ঝুঁকি এবং অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও তার সংস্থা সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


XS
SM
MD
LG