অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

অমর একুশে বইমেলার তৃতীয় দিন কম ছিল গ্রন্থানুরাগীর সংখ্যা


বইমেলার স্টলে সাজানো বই থেকে পছন্দের বই বাছাই করছেন গ্রন্থানুরাগীরা। ১৭ ফেব্রুয়ারি।

বাংলা একাডেমির অমর একুশের বইমেলায় বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আগের দুই দিনের তুলনায় গ্রন্থানুরাগী ও দর্শক সংখ্যা কিছু কম দেখা গেছে। তবে নতুন বইয়ের সংখ্যা বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার মেলার তথ্যকেন্দ্রে নতুন বইয়ের নাম জমা পড়ে ৪১টি। এ ছাড়া মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে সাতটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

আগামীকাল মেলার প্রথম শুক্রবার। বরাবরই সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলায় থাকে উপচে পড়া ভিড়। শুক্রবার মেলার দ্বার খুলবে সকাল ১১টায়। চলবে টানা রাত নয়টা পর্যন্ত।

প্রকাশকেরা আশা করছেন, শুক্রবার বিক্রিও ভালো হবে। বেহুলা বাংলা প্রকাশনীর স্টলের ব্যবস্থাপক রেপ্লিকা রত্ন, পার্ল পাবলিকেশনের ব্যবস্থাপক নিতাই মন্ডলসহ অনেকই বললেন, প্রায় সব স্টলেই অনেক নতুন বই এসেছে। তারা আশা করে আছেন ছুটির দিনে ক্রেতারা কেনাকাটা শুরু করবেন ।

নাটক ও চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা

বৃহস্পতিবার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় “স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীঃ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও নাটক” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাবুল বিশ্বাস এবং মোমিন রহমান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অরুণা বিশ্বাস ও সাজ্জাদ বকুল। সভাপতিত্ব করেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার।

বাংলাদেশের নাটক বিষয়ে প্রবন্ধে বাবুল বিশ্বাস বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ–জাত বাংলাদেশে মঞ্চনাটক সাংস্কৃতিক জগতে বিপ্লব সৃষ্টি করলেও সমাজ ও রাষ্ট্রে জেঁকে বসা অশুভ শক্তি নাটকের স্বাধীন বিকাশকে বাধাগ্রস্থ করার অপচেষ্টা চালিয়েছে বারবার। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নাট্যচর্চার কোনো বিকল্প নেই।”

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিষয়ে প্রবন্ধে মোমিন রহমান বলেন, “বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিষয় ও নির্মাণশৈলীতে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে তবে বিশ্বমানের চলচ্চিত্র সৃজনে আমাদের এখনো অনেক কিছু করার আছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংস্কৃতির অন্য ‌ক্ষেত্রের মতো আমাদের চলচ্চিত্রের যথাযথ বিকাশে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।”

আলোচকেরা বলেন, চলচ্চিত্র ও নাটক, দুটি খুবই শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম। যার মাধ্যমে খুব সহজে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। স্বাধীনতার স্বপ্ন নিয়ে বাঙালি সংস্কৃতির মুক্তির দাবিতে আমাদের যে সংগ্রাম করতে হয়েছে তার সঠিক ও সত্য ইতিহাস প্রতিফলিত হতে হবে চলচ্চিত্র ও নাটকের মতো শিল্পমাধ্যমগুলোতে।

সভাপতির বক্তব্যে রামেন্দু মজুমদার বলেন, “নাটক ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে আনা যেতে পারে। নতুন প্রজন্মের তরুণ নির্মাতারা শিল্পমানসম্পন্ন, জীবনমুখী চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন, যা বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। আর নাটকের ক্ষেত্রে বলা যায়, স্বাধীনতার সুবর্ণ ফসল বাংলাদেশের নাটক। স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলাদেশে প্রতিবাদী নাটকের যে ধারা তৈরি হয়েছিল তা স্বাধীনতা-পরবর্তী নাটকের ধারাকে সমৃদ্ধ করেছে।”

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

সন্ধ্যায় মূলমঞ্চের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন কবি অসীম সাহা, আলতাফ হোসেন, শিহাব সরকার, রেজাউদ্দিন স্টালিন ও অঞ্জনা সাহা। আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী মো. রফিকুল ইসলাম, ঝর্ণা সরকার ও ইকবাল খোরশেদ।

সমবেত সংগীত পরিবেশন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন “বহ্নিশিখা” এবং “বুলবুল ললিতকলা একাডেমি”র শিল্পীরা।

আর লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন আসাদ মান্নান ও আমিনুর রহমান।

XS
SM
MD
LG