অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে চীনও

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীনের বেইজিং-এ তাদের আলোচনার আগে একটি ছবির জন্য পোজ দিচ্ছেন।৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীনের বেইজিং-এ তাদের আলোচনার আগে একটি ছবির জন্য পোজ দিচ্ছেন।৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২।

বিশ্লেষকরা বলছেন যে ইউক্রেন সঙ্কট আরও বৃদ্ধি পেলে রাশিয়ার সাথে চীনের গভীরতর হতে থাকা সম্পর্কের জন্য, চীনকে গুরুতর ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে।

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এই দুইটি দেশ তাদের তথাকথিত সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করেছে, তবুও ইউক্রেনকে সামরিকভাবে ঘেরাও করার মস্কোর পদক্ষেপের প্রতি বেইজিং পূর্ণ সমর্থন প্রদান করেনি।

একই সাথে এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গিয়েছে যে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত চীনের জাতীয় স্বার্থের পক্ষে কাজ নাও করতে পারে বলেও চীন দুশ্চিন্তায় রয়েছে। বিশেষ করে এমন সময়ে যখন কিনা পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে চীনের সম্পর্ক অবনতির পথে রয়েছে এবং দেশটির অর্থনীতির গতি ধীর হয়ে চলেছে।

চীন শুক্রবার আবারও সঙ্কটটির একটি রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র ওয়্যাং ওয়েনবিন বলেন, “রাশিয়া সহ সকল পক্ষের যুক্তিযুক্ত নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়গুলো আলোচনা ও দেনদরবারের মাধ্যমে সঠিকভাবে সমাধানের জন্য মিনস্ক-২ চুক্তির ভিত্তিতে সেটির চেষ্টা করা উচিৎ।”

এই সপ্তাহে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশ করে যে, ইউক্রেন বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বেইজিং কতখানি সমর্থন দিবে সেই বিষয়টি চীন হিসাব-নিকাশ করছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয় যে, এ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের মতে, চীনের জাতীয় স্বার্থের ক্ষতি না করে কিভাবে সঙ্কটটিতে সাড়া দেওয়া যায়, সে বিষয়ে চীনের সর্বোচ্চ নেতারা বিতর্ক করেছেন।

একটি সম্ভাব্য রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বেইজিংয়ের সাথে মস্কোর সম্পর্কের জন্যও একটি পরীক্ষা হয়ে দাড়াবে। চীন যদি তাদের নিজস্ব অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কায় পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মেনে নেয়, তাহলে মস্কো চীনকে একটি অনির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করবে বলে, আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউটের ফেলো ডাস্টিন ওয়াকার মনে করেন।

ইউক্রেনের সাথেও চীনের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সম্পর্কও রয়েছে। চীন ইউক্রেনের বৃহত্তম বাণিজ্য সহযোগী। ২০১১ সাল থেকে দেশ দুইটির মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বও বিরাজ করছে। ইউক্রেন রাশিয়ারও পূর্বে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে যোগ দিয়েছিল।

XS
SM
MD
LG