অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পুনরুজ্জীবিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে পশ্চিমা দেশগুলো বেরিয়ে যাবে না এমন নিশ্চয়তা চান ইরানের আইন প্রণেতারা


তেহরানে সংসদে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির শপথ অনুষ্ঠান। (ফাইল ফটো- এপি)
তেহরানে সংসদে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির শপথ অনুষ্ঠান। (ফাইল ফটো- এপি)

ইরানের আইনপ্রণেতারা প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং তিন ইউরোপীয় দেশ থেকে নিশ্চয়তা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন যে, দেশগুলো ভিয়েনায় পুনরায় পুনরুজ্জীবিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাবে না। রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

রাইসিকে লেখা একটি চিঠিতে, তারা বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র এবং পরমাণু চুক্তির ইওরোপীয় দেশগুলো—ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির—নিশ্চয়তা দেওয়া উচিত যে তারা “স্ন্যাপব্যাক মেকানিজমে” ফিরে যাবে না, যার অধীনে ইরান পারমাণবিক চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে পুনর্বহাল করা যাবে।

চিঠিতে আইনপ্রণেতারা বলেছেন, “আমাদের অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে প্রথমে প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা না নিয়ে কোনো চুক্তিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া যাবে না”।

বিবৃতিতে ২৯০ জন ইরানি সংসদ সদস্যের মধ্যে ২৫০ জন স্বাক্ষর করেছেন।

ইরান এবং চুক্তির অবশিষ্ট পক্ষগুলো—ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও চীন—২০১৫ সালের একটি চুক্তি পুনরায় সক্রিয় করতে কাজ করছে। চুক্তিটি ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করার বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো থেকে মুক্তি দেবে৷

যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষভাবে আলোচনায় অংশ নিয়েছে, কারণ ২০১৮ সালে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে নাম প্রত্যাহার করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি চুক্তিতে আবার যোগ দিতে চান।

ইরানের আইনপ্রণেতারাও শর্ত দিয়েছেন যে, ইরানের ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেই চুক্তিতে প্রত্যাবর্তন করা উচিত।

চিঠিতে বলা হয়েছে, তেহরান পরমাণু চুক্তিতে ফিরে আসার আগে তারা প্রথমে নিশ্চিত করতে চায় যে, ইরান তার রপ্তানির অর্থ ফিরে পাবে।

জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ ১৯ ফেব্রুয়ারি বলেন যে, ভিয়েনায় আলোচনা গত ১০ মাসে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে এবং “আলোচনার উপসংহার টানতে প্রয়োজনীয় সমস্ত উপাদান প্রস্তুত রয়েছে”।

তবে তিনি জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থার পর্যবেক্ষণকারীদের বাধা দেওয়া এবং ইউরেনিয়াম মজুত সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখার জন্য ইরানের সমালোচনাও করেন।

একই দিনে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান বলেছেন যে, নমনীয়তা দেখানো পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর নির্ভর করে এবং “বল এখন তাদের কোর্টে”। তিনি বলেন, ইরান একটি কার্যকরি চুক্তি অর্জনের জন্য প্রস্তুত।

[এপি এবং এএফপির তথ্য এই প্রতিবেদনে ব্যবহার করা হয়েছে]

XS
SM
MD
LG