অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কথিত ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের কঠোর আইন : মানবাধিকার লংঘনের আশংকা


টুইটার, ইউটিউব এবং ফেসবুকের লোগো।

ইসলামাবাদ — বিতর্কিত সাইবার ক্রাইম আইনকে আরও কঠোর করে, টুইটার এবং ফেসবুকে তথাকথিত ভুয়া খবর পোস্ট করার বিরুদ্ধে যে কাউকে অভিযোগ দায়ের করার অনুমতি দেওয়ার জন্য এবং দোষী সাব্যস্তদের কারাদণ্ডের মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর বৃদ্ধি করে, ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে পাকিস্তান৷

প্রেসিডেন্টের অধ্যাদেশের মাধ্যমে রবিবার প্রবর্তিত ‘প্রিভেনশন অফ ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্ট’ বা ‘ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইন’ নামে পরিচিত সংশোধিত ওই আইনে ফেক নিউজ বা ভুয়া খবর ছড়ানো, কিংবা অনলাইনে কোনও ব্যক্তি অথবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মানহানি করাকে একটি অপরাধে পরিণত করেছে, আর এই ধরনের অপরাধে জামিনের কোনও বিধান রাখা হয়নি৷

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রী ফারোগ নাসিম বলেছেন, “ভুয়া খবর রোধে এই অধ্যাদেশ আনা খুবই জরুরি ছিল। ভুয়া খবর ছড়ালে এখন থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের সাথে সেটি জামিন অযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে।”

তবে দেশটির রাজনৈতিক বিরোধীরা এবং বাকস্বাধীনতার সমর্থকরা এই পদক্ষেপকে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকারের বিরুদ্ধে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টা হিসাবে নিন্দা করেছেন।

মানহানি বিষয়ক ফৌজদারি আইনটি মূলত ২০১৬ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সরকার দ্বারা প্রণীত হয়েছিল। সে সময়ও ভিন্নমত এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের উপর আক্রমণ হিসাবে আইনটির কঠোর সমালোচনা করা হয়েছিল।

তবে শরীফের নেতৃত্বে বিরোধী দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-এন পার্টির মুখপাত্র মরিয়ম আওরঙ্গজেব সোমবার সরকারের সমালোচনা করে এই আইনকে "কঠোর এবং কালো" সংশোধনী বলেছেন। তিনি ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের বলেন, সংশোধনীগুলি ভুয়া খবর ছড়ানোর অভিযোগে, যে কাউকে আটক করার জন্য সরকারকে ব্যাপক ক্ষমতা দেয়।

এক বিবৃতিতে, পাকিস্তান ফেডারেল ইউনিয়ন অফ জার্নালিস্ট বলেছে, সরকারের এই পদক্ষেপ "অপ্রত্যাশিত এবং নিন্দনীয়," পাশাপাশি এই আইন গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করেছে।

পাকিস্তানের স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন বলেছে, এটি একটি অগণতান্ত্রিক আইন, এবং আইনটি "অবশ্যই সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভিন্নমত ও সমালোচকদের দমন করতে ব্যবহার করা হবে।"

অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অফ জুরিস্টের দক্ষিণ এশিয়ার আইনী উপদেষ্টা রিমা ওমর বলেছেন, সংশোধনীগুলি বিদ্যমান আইনটিকে "আরও নিপীড়নমূলক" করে তুলেছে।

XS
SM
MD
LG