অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৩৬ দিন পর ক্লাসে ফিরলেন


সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) এর ক্লাসরুম। (ছবি- ইউএনবি)

অচলাবস্থা কাটিয়ে চিরচেনা রূপে ফিরেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও করোনার ছুটিতে টানা ৩৬ দিন বন্ধ থাকার পর বিভিন্ন বিভাগে আবার সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিভিন্ন বিভাগে সশরীরে ক্লাস শুরু হয়। এতে করে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় ফের মুখরিত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহম্মদ ইশফাকুল হোসেন বলেন, “গত ১৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, করোনাসংক্রান্ত সরকারি বিধিনিষেধ উঠে গেলে সশরীর ক্লাস শুরু হবে। যেহেতু নতুন করে সরকার কোনো বিধিনিষেধ জারি করেনি, তাই আজ (মঙ্গলবার) থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগের রুটিন অনুযায়ী সব পর্যায়ের ক্লাস-পরীক্ষা যথারীতি শুরু হয়েছে।”

বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ফারজানা সিদ্দিকা বলেন, “এক মাস পর আবারও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সশীরের ক্লাসে ফেরা হয়েছে। করোনা ছুটির পর শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা নিশ্চিত করেই ক্লাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিত হতে দেওয়া হচ্ছে। ক্লাসগুলোতেও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি থেকে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্টের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

১৬ জানুয়ারি বিকেলে তিন দফা দাবি আদায়ে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। ওই দিন জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে সবধরনের ক্লাস, পরীক্ষা, আবাসিক হলসমূহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ৩০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

এরপর শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় উপাচার্যকে দায়ী করে তার পদত্যাগ দাবি করে আমরণ অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। ২৬ জানুয়ারি টানা সাত দিনের অনশন ভাঙলেও উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির আশ্বাসে ১২ ফেব্রুয়ারি আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন শিক্ষার্থীরা। পরে ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে সব আবাসিক হল খুলে দেওয়া হয় এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

XS
SM
MD
LG