বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জে পুলিশের নির্যাতনে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আসকের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের ফলে উজির মিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। উপরন্তু টাকা দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে দ্রুততার সঙ্গে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে আসক।
গণমাধ্যমসূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি (২০২২), সুনামগঞ্জের শত্রুমর্দন গ্রামে উজির মিয়াকে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করে শান্তিগঞ্জ থানার পুলিশ। এরপর গত ১১ ফেব্রুয়ারি উজির মিয়া জামিনে মুক্তিলাভের পরই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২১ ফেব্রুয়ারি উজির মিয়া মৃত্যুবরণ করেন। পরিবারের অভিযোগ, তাকে থানায় অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। তার পরিবার আরও জানায়, উজির মিয়া নিজেই পরিবারকে জানিয়েছে যে, পুলিশ থানায় তার প্রতি নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতন করছে এবং তাকে নানাভাবে মৃত্যুর হুমকিও দিয়েছে। অন্যদিকে উজির মিয়ার মৃত্যুর পর তার মরদেহে আঘাতের চিহ্ন নিশ্চিত করেছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।
আসক উল্লেখ করতে চায় যে, পুলিশ হেফাজতে উজির মিয়ার মৃত্যু, বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(৫) এবং নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩–এর ধারা ১৩(১)–এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। আসক এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছে।”