অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সাক্ষাৎকার: নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান


নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান। (ছবি- মো. আনিছুর রহমানের সৌজন্যে)

বাংলাদেশে নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অপর চার কমিশনার নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। আগামী পাঁচ বছরের জন্য তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মো. আনিছুর রহমান সদ্য নিয়োগ পাওয়া নির্বাচন কমিশনের একজন কমিশনার। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তি, নির্বাচন কমিশন এবং বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা হয় ভয়েস অফ আমেরিকার।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এহ্সান মাহমুদ।

ভয়েস অফ আমেরিকা: সদ্য পুর্নগঠিত নির্বাচন কমিশনের একজন কমিশনার হিসেবে আপনি মনোনীত হয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার আপনাকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। খবরটি জানার পরে এখন কী মনে হচ্ছে?

আনিছুর রহমান: আমি বাংলাদেশের একটি সাংবিধানিক পদে নিয়োগ পেলাম এটা আমার জন্য আনন্দের। আমার প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে আমি আন্দরিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে চেষ্টা করবো। এর আগেও যেভাবে আমি বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছি, এই কাজটিও সেভাবে করে যাব।

ভয়েস অফ আমেরিকা: নতুন দায়িত্ব নিয়ে আগের কমিশন বিষয়ে যদি আপনার মতামত জানতে চাই।

আনিছুর রহমান : দেখেন, আমি কেবলই দায়িত্ব নিতে যাচ্ছি। সেই কমিশনের মেয়াদ এখন শেষ হয়েছে। আর সেটা নিয়ে আমি তাই কথা বলতে চাই না।

ভয়েস অফ আমেরিকা: কোনোকিছুর ব্যত্যয় না হলে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনারাই দায়িত্ব পালন করবেন। এমন একটা সময়ে আপনারা দায়িত্বভার নিলেন, যখন এর আগের দুটি নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট পরিচালনা করতে পারেনি বলে সমালোচনা রয়েছে। বিশেষকরে, গত ২০১৮ এর ডিসেম্বরের নির্বাচনে রাতে ভোট হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সেখানে এই নতুন যাত্রা কতটা নিশ্চিত ও নিরাপদ হবে বলে আশা করেন?

আনিছুর রহমান : আগের নির্বাচন কেমন হয়েছে, সেটা আমি বলতে পারবো না। আমরা আর সবার মতো টিভিতে, পত্রিকায় খবর পড়েছি বা দেখেছি। বাইরে থেকে সব জানা যায় না। এখন সবার সহযোগিতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যেতে চাই।

ভয়েস অফ আমেরিকা: সবার সহযোগিতা বলতে কাদেরকে বোঝাতে চাইছেন? যদি বিস্তারিত বলেন....

আনিছুর রহমান : সরকারের অন্যন্য প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দলসমূহ, সিভিল সোসাইটি, গণমাধ্যমসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চাই।

ভয়েস অফ আমেরিকা: বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে, ইসি ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না, এমন অভিযোগ ও সমালোচনা বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে নানা মহলে প্রায়ই আলোচিত হয়। এটাকে কীভাবে দেখছেন?

আনিছুর রহমান : শুরুতেই বলতে চাই, ইসি এককভাবে কিছু তো করে না। আরও বেশকিছু প্রতিষ্ঠান মিলে কাজ করে। তাই কী কী করা যায়, কী কী করা যায় না এসব নিয়ে আমরা (মাননীয় সিইসি এবং অন্যান্য কমিশনারগণ) বসে আলোচনা করবো। করণীয় ঠিক করবো। তারপরে বিস্তারিত বলতে পারবো। এরই মাঝে মাননীয় সিইসি গণমাধ্যমে কথা বলেছেন। আইনে ঠিক আছে, আগে তা জেনে, পড়ে দেখি। কর্মপরিকল্পনা ঠিক করে বিস্তারিত বলা যাবে।

ভয়েস অফ আমেরিকা: আপনার ব্যক্তিগত বিষয়ে যদি জানতে চাই ...

আনিছুর রহমান : আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা শরীয়তপুরে। ভেদরগঞ্জ উপজেলায় আমার গ্রামের বাড়ি। সেখানেই পড়াশোনা শুরু করেছিলাম। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭৯-৮০ সেশনে জিওগ্রাফিতে ভর্তি হয়েছিলাম। সেখান থেকেই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়েছি। বিসিএস ৭ম ব্যাচের মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলাম। তারপরে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্বপালন করেছি। সেখান থেকেই অবসরে গিয়েছিলাম। আমার স্ত্রী গৃহিণী এবং দুই সন্তান রয়েছে।

XS
SM
MD
LG