অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধে জাতিসংঘ মিশনের ১২ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করছে যুক্তরাষ্ট্র


ফাইল - নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনে রাশিয়ান ফেডারেশনের কনস্যুলেট জেনারেলের বাইরে রাশিয়ান পতাকা উড়ছে।২ আগস্ট ২০২১।
ফাইল - নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনে রাশিয়ান ফেডারেশনের কনস্যুলেট জেনারেলের বাইরে রাশিয়ান পতাকা উড়ছে।২ আগস্ট ২০২১।

যুক্তরাষ্ট্র সোমবার জানিয়েছে, গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে মস্কোর মিশনে কর্মরত ১২ জন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করছে।

“জাতিসংঘ এবং জাতিসংঘে রাশিয়ার স্থায়ী মিশনকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে, রুশ মিশন থেকে ১২ জন গোয়েন্দা অপারেটিভকে আমরা বহিষ্কার করার প্রক্রিয়া শুরু করছি, যারা গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে জড়িত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগের অপব্যবহার করেছেন, যেটা কি না আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ”, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের মিশনের মুখপাত্র অলিভিয়া ডল্টন এক বিবৃতিতে বলেছেন। “আমরা জাতিসংঘ সদর দপ্তরের চুক্তি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নিচ্ছি। এই পদক্ষেপটি বেশ কয়েক মাস ধরে প্রক্রিয়াধীন ছিল।”

জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া সাংবাদিকদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে দেশ ছাড়ার জন্য ৭ মার্চ পর্যন্ত সময় দিয়েছে। তিনি বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের একটি “শত্রুভাবাপন্ন পদক্ষেপ” এবং জাতিসংঘের আয়োজক দেশ হিসেবে ওয়াশিংটনের দায়বদ্ধতার খেলাপ।

নেবেনজিয়া আদেশটিকে “দুঃখজনক সংবাদ” বলেও অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আয়োজক দেশ হিসেবে, “জাতিসংঘের সনদ ও স্বাগতিক দেশ চুক্তি উভয়ের অধীনে এবং ভিয়েনা কনভেনশনের অধীনে” দেওয়া তার প্রতিশ্রুতির প্রতি “ঘোর অসম্মান” দেখাচ্ছে। কূটনীতিকদের প্রতি আচরণের ক্ষেত্রেও ভিয়েনা কনভেনশন প্রযোজ্য।

নেবেনজিয়া ইউক্রেন সংঘাত সম্পর্কে একটি সংবাদ সম্মেলনের সময় ফোনে এই খবর পান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মস্কোর নিউইয়র্ক মিশনে চিঠি দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক জাতিসংঘে নিয়োজিত রাশিয়ার কূটনীতিকদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার ঘটনা এই প্রথম নয়। অতি সম্প্রতি, ২০১৮ সালে, ট্রাম্প প্রশাসন ব্রিটেনে একজন প্রাক্তন রুশ গুপ্তচরকে বিষ প্রয়োগের কারণে উদ্ভূত উত্তেজনার জেরে একই ধরনের অভিযোগে জাতিসংঘের মিশন থেকে এক ডজন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছিল।

নেবেনজিয়া ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বৈঠকের শুরুতে সদস্যদের এ বিষয়ে অবহিত করেন।

“আমাদেরকে কূটনীতি, কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে। আবার একই সময়ে, আমাদের জন্য এই ধরনের কার্যকলাপ পরিচালনার সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে”, তিনি বলেন। “আমরা এই সিদ্ধান্তের জন্য গভীরভাবে আশাহত এবং এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে পরবর্তীতে কী ঘটে তা পর্যবেক্ষণ করব”।

যুক্তরাষ্ট্রের দূত রিচার্ড মিলস জবাবে বলেন, এই সিদ্ধান্তটি জাতিসংঘ সদর দপ্তরের চুক্তি অনুসারে নেওয়া হয়েছে।

XS
SM
MD
LG