অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

চেরনোবিলের কর্মীরা শীতার্ত, ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত, বলছে ইউক্রেনের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা


ইউক্রেনের চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ চুল্লির নির্মাণকাজ। (ফাইল ফটো- এপি)

১৯৮৬ সালের পারমাণবিক দুর্ঘটনার স্থানের নিষ্ক্রিয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ইউক্রেনের কর্মীরা, রাশিয়ার সামরিক দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালীন ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত এবং ভুল করার অধিক সম্ভাবনার অবস্থার মধ্যে রয়েছেন বলে ইউক্রেনের প্রধান পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

একজন কর্মীর এক আত্মীয় ভিওএ-কে জানান যে, কর্মীরা পরিষ্কার বস্ত্র ও কম্বল ছাড়া রয়েছেন এবং তাদেরকে প্রতিদিন মাত্র একবার খেতে দেওয়া হচ্ছে। ঐ কর্মীরা এক সপ্তাহ ধরে একটানা কাজ করে যাচ্ছেন। তাদেরকে পাহারারত রাশিয়ার সৈন্যরাও সরবরাহ সঙ্কটে রয়েছেন এবং স্থানীয় গ্রামগুলোতে খাবারের সন্ধানে ঘুরছেন বলে এক নারী জানিয়েছেন। ঐ নারী পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ভেতরে অবস্থানকারী তার এক আত্মীয়ের সাথে যোগাযোগে রয়েছেন।

২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া আক্রমণ শুরু করার পর, বেলারুশের সীমান্ত থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরের এই স্থাপনাটি তাদের দখলে আসে। সেখানকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৫০জন ন্যাশনাল গার্ড সেনাকে দ্রুত পরাস্ত করে রুশ সেনারা, যদিও সেখানে কেউ নিহত হয়নি বলে তারা জানায়।

এর দুইদিন পর রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বরাত দিয়ে রাশিয়ার গণমাধ্যম জানায় যে, স্থাপনাটির যৌথ নিরাপত্তা বিষয়ে ইউক্রেনের ন্যাশনাল গার্ড ও রাশিয়ার বাহিনীর মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।

তবে, স্টেট নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি ইন্সপেক্টরেট অফ ইউক্রেন নামের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ভিওএ-কে এক চিঠিতে জানায় যে, দায়িত্বরত প্রহরীদের বন্দী করা হয়েছে এবং তারা স্থাপনাটির ভেতরেই রয়েছেন।

এছাড়াও, রুশ বাহিনীর দখলের সময়ে রাত্রীকালীন শিফটের দায়িত্বে থাকা ৯৫ কর্মী, নিকটস্থ স্লাভুটিচ সিটি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী, দমকলকর্মী, এবং সেখানে আশ্রয়প্রার্থী ৪ দর্শনার্থীও ভেতরে রয়েছেন বলে সংস্থাটি জানায়। সব মিলিয়ে ভেতরে ৩০০জন ইউক্রেনের নাগরিক আটক রয়েছেন।

সংস্থাটির চিঠিতে বলা হয় যে, রাত্রীকালীন কর্মীরা সাধারণত ১২ ঘন্টা দায়িত্ব পালন করলেও, দখলের পর থেকে তাদের দায়িত্বে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। তারা এখনও পর্যন্ত পরপর ১৪টি শিফট একটানা কাজ করেছেন।

XS
SM
MD
LG